চীনের পার্লামেন্টে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির ১৬২ জন সদস্যের সম্মতিতে মঙ্গলবার নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাস হয়েছে। এ আইনের আওতায় হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কর্তৃপক্ষকে অবমাননা, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত নিষিদ্ধ করাসহ এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়েছে। আইনটির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে চীনের প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধের জন্য বিচারে অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে এ আইনে। হংকং সরকার মঙ্গলবার রাত থেকেই আইনটি কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছিল। আইনটিকে হংকংয়ের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকর্মীরা। চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদ, বৈধ সরকার পতনে অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম, সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশি হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় এ আইনের অনুমোদন দিয়েছে পার্লামেন্ট। কিন্তু গণতন্ত্রপন্থিদের দাবি, এ আইন অঞ্চলটির বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসা রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিসমাপ্তি ঘটাবে।

বুধবার থেকে হংকংয়ের জন্য নতুন এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে পথ চলা শুরু হয়েছে। চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন জারি হওয়ার পর থেকে অঞ্চলটির জনজীবনে গভীর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইনের ফলে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন, নাগরিক ও সামাজিক স্বাধীনতা খর্ব হবে এবং গোটা অঞ্চলের ওপর বেইজিংয়ের কর্তৃত্ববাদ শাসন আরও মজবুত হবে।

আইনটির বিরোধিতা করে হংকংয়ের বেশ কয়েক স্থানে গতকাল বিক্ষোভ হয়। ব্যস্ততম এলাকা কসওয়ে বে’র রাস্তায় প্রতিবাদকারীরা জড়ো হলে দাঙ্গা পুলিশ তাদের ওপর পিপার স্প্রে করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে জলকামান মোতায়েন করা হয় ওই অঞ্চলে। প্রতিবাদের সময় হংকং জাতীয় নিরাপত্তা আইনে প্রথম একজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তার হাতে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে একটি কালো পতাকা ধরা ছিল। এর কিছু সময় পরেই একজন নারী বিক্ষোভকারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে গ্রেপ্তার করা হয় ৭০ জনকে। এর মধ্যে দুজনকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে ধৃত দেখানো হয়েছে। এমন এক দিনে এই আইন কার্যকর করা হয় যেদিন হংকংবাসী ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্তি পাওয়ার দিবস হিসেবে উদযাপন করে। এই দিনটিকেই চীন বেছে নিয়েছে হংকংয়ের ভিন্ন মতাবলম্বীদের শায়েস্তা করার জন্য। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার মতো বিধানও আছে। ফলে নতুন এই আইনের ভয়ে হংকংয়ের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক ও অ্যাকটিভিস্ট গ্রুপ তাদের দল ভেঙে দিয়েছে। স্থানীয় দোকানদারদের রাস্তায় লাগানো সরকারবিরোধী পোস্টার তুলে ফেলতে দেখা যায়। অনেক নাগরিকই তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট মুছে ফেলছেন আতঙ্কে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবাদকারী জানান, তিনি শহর ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করবেন এখন থেকে। তিনি আরও বলেন, ‘নিজেকে সেন্সর না করতে পারাটা কঠিন। আমার মনে হয়, অধিকাংশ মানুষই আরও সতর্ক হয়ে উঠবেন। আমার হংকং ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু এই সময়ের কথা চিন্তা করে আমাকে তা করতে হচ্ছে।’  সূত্র : সিএনএন