বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে ক্ষুধাপীড়িত মানুষের সংখ্যা আরও ১৩ কোটি ২০ লাখ বাড়বে। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণে নতুন একটি চ্যালেঞ্জ যুক্ত হলো। খবর আলজাজিরার।

বিশ্বে প্রতিবছরই বাড়ছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। ২০১৯ সালে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে। এরমধ্যে ভয়াবহ ক্ষুধাপীড়িতের শিকার ছিল ৭৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ। এবার করোনা মহামারির কারণে লকডাউনে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্বের অর্থনীতি। দেশে দেশে বেকার হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ।

জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ কারণে এ বছর আরও ১৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ ক্ষুধার শিকার হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে এশিয়ায় অপুষ্টিতে ভুগছে প্রায় ৩৮ কোটি মানুষ। আফ্রিকায় প্রায় ২৫ কোটি লাতিন আমেরিকা আর ক্যারিবীয় অঞ্চলে এ সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি।

ইউনিসেফ বলছে, আফ্রিকা আর দক্ষিণ এশিয়ার শিশুরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে।

এ বিষয়ে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম নির্বাহী পরিচালক ডেভিড ব্রেসলি বলেন, ‌‘করোনা মহামারির পাশাপাশি আমাদের ক্ষুধা মহামারির সাথে লড়তে হচ্ছে। ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে অভিবাসন, রাজনৈতিক অস্থিরতা। দেরি না করে পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই।’

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেন, ‘এমনিতেই ক্ষুধা দারিদ্র্য দূর করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হিমশিম খাচ্ছে, করোনা মহামারী অবস্থা আরো ভয়াবহ করে দিয়েছে। কোভিড নাইনটিন মহামারি নিয়ন্ত্রণে যে বিনিয়োগ আছে, তা স্থিতিশীল বিশ্ব গড়তে কাজে লাগাতে হবে। খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে হবে, মানুষের জন্য, পৃথিবীর জন্য। এ লক্ষ্যে আমরা আগামী বছরই ফুড সিস্টেম সামিটের আয়োজন করবো আফ্রিকা আর এশিয়ার শিশুদের জন্য।’