ভারতের কেরালা রাজ্যের কোঝিকোড়ের কারুপুর বিমানবন্দরে দুবাইফেরত এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার এ ঘটনায় বিমানের অন্তত ১১২ যাত্রী আহত হয়েছেন। খবর এনডিটিভির

দুবাই থেকে ভারতীয়দের নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানটি দেশে ফিরছিল। বিমানবন্দরে অবতরণের সময় সেটি রানওয়ে থেকে ছিটকে দুই টুকরো হয়ে যায়। বিমানটিতে ১৭৪ জন যাত্রী, ১০ জন শিশু, দুইজন পাইলট এবং চারজন কেবিন ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনায় মারা গেছেন দুই পাইলটসহ মোট ১৮ জন।

দেশটির অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এই বিমান দুর্ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি রানওয়েতে নামার সময় চাকা পিছলে গিয়ে ৩৫ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে। জানা গেছে, দুর্ঘটনার আগে পাইলটরা বিমানটি দু’বার অবতরণের চেষ্টা করেও নামতে পারেনি। তৃতীয়বার অর্থাৎ চূড়ান্ত অবতরণের সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) জানিয়েছে, বিমানটি তার পূর্ণ গতিতেই ছিল। এটি রানওয়ে-১০ এর চারপাশে চক্কর দেয় বেশ কয়েকবার। কিন্তু অবতরণ করতে গেলে সেটি রানওয়ে থেকে ছিটকে যায়।

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ করছিলো বিমানটি 

শনিবার ভোরে ডিজিসিএ, বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত ব্যুরোর তদন্তকারী কর্মকর্তারা, এয়ার ইন্ডিয়ার এক্সপ্রেসের সিইও এবং এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের অন্যান্য কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শারজা ও দুবাইতে সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। 

ডিজিসিএ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্ল্যাক বক্স থেকে দুর্ঘটনার আগের প্রতিটি মুহূর্তের বিষয় জানা যাবে বলে আশা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। 

বিমান দুর্ঘটনার পর শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 

প্রধানমন্ত্রী মোদি টুইট করেছেন, কোঝিকোড়ে একটি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। যারা তাদের প্রিয়জনকে এই দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমার সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।