কাঁদলে মন হালকা হয়। তবে সেটা শোকের সময়। এমনি এমনি তো আর কাঁদা যায় না। আবার শোকের সময় না কেঁদে চিৎকার-চেঁচামেচিও করা যায় না।

তবে চিৎকার-চেঁচামেচিতেও যে মনের ভার কাটে, তা দেখাল মেলবোর্নের লকডাউনে অতিষ্ঠ মানুষেরা। লকডাউনে একাকীত্ব কাটাতে মন খুলে চিৎকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই শহরের মানুষেরা। ডব্লিউ ডব্লিউ রেড্ডিট ডট কম নামের একটি সংবাদসূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য।

২০১০ কে কেউ কেউ মনের দুঃখে বলেছেন ‘বিষময়’ বিশ। ২০১৯ সালেও কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি, মানুষের জন্য ২০২০ সাল এমন ভয়াবহ করোনাকাল হয়ে আসবে। নতুন বছরের শুরু থেকে ধীরে ধীরে অভিশাপের মতো জেঁকে বসেছে আতঙ্ক আর অস্বস্তির সময়। মারণ ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সারা দুনিয়ায় ২ কোটিরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন সাত লাখেরও বেশি।

ভাইরাস ঠেকানোর ভ্যাকসিনও বের করতে পারছে না এখনও কোনো দেশ। অতএব কেবল মাস্ক, স্যানিটাইজার, দূরত্ববিধি এবং তার সঙ্গে অনিবার্য লকডাউন। সারা দুনিয়া এখন কমবেশি লকডাউনের কবলে। লকডাউনে আত্মীয়, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নেই। সিনেমা দেখা, রেস্তোরাঁয় খাওয়া বা ঘুরতে যাওয়ারও উপায় নেই। এর ফলে করোনা ঠেকানো কতটা সম্ভব হয়েছে, তা তর্কের বিষয়। কিন্তু এর ফলে মানুষের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। মনোবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘরবন্দি থাকতে থাকতে অনেকেই একাকীত্বে ভুগছেন। একঘেয়ে জীবনে বাড়ছে মনের অসুখ।

কিন্তু মানুষ সহজে হার মানতে অভ্যস্ত নয়। লকডাউনের কষ্টকে উড়িয়ে দিতে তাই অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের মানুষেরা অভিনব এক পন্থা বের করেছেন। সেটা হলো- চিৎকার থেরাপি। মেলবোর্নের মানুষ কেউ বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করছেন। কেউ আবার মাঝ রাস্তাতেই চিৎকার করে কান ফাটিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে আবার নিজের চিৎকারের ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। অন্যদেরও পরামর্শ দিচ্ছেন, চিৎকার করুন প্রাণ খুলে। মনের ভার কাটান। বলা হচ্ছে- অহেতুক চিৎকার করে বেকুবের হাসি হাসুন। দেখবেন সে হাসিই আপনাকে চাঙ্গা করে তুলতে শুরু করেছে। আসল কথা হলো আপনাকে হাসতে হবে।

টুইটারে নিজের চিৎকারের ছবি আপ করে একজন লিখেছেন, ‘মন খুলে চিৎকার করেছি। এখন সত্যিই খুব ভাল লাগছে।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘চিৎকার করার পর আমি নিজেই হেসে ফেলেছি। এটাই সম্ভবত সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। হতাশা কাটানোর খুব ভাল উপায়।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘ব্যাপারটা গাধামি মনে হতে পারে। তবে এটা কাজে দিচ্ছে। কিছু না, স্রেফ বাইরে গিয়ে দাঁড়ান, তারপর গলা ছেড়ে চেঁচাতে থাকুন। আপনিও হাসবেন, অন্যরাও হাসবে।’