ইরানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে কোথাও পাত্তা পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে নিজেদের ভোট ছাড়া কেবল একটি ভোটই পায় তারা। ফলে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও অবশ্য বলেছেন, তাদের প্রচেষ্টা থেমে থাকবে না। তবে রোববার আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বের হয়ে যাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের যোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল। এর কারণ হিসেবে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তিনি। খবর আল জাজিরার

ইইউ’র পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেলের পক্ষে তার মুখপাত্র বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে এখন আর জেসিপিওএ’র অংশ বলে মানা যায় না। কারণ ২০১৮ সালের ৮ মে জেসিপিওএ থেকে তারা একতরফাভাবে সরে যায় তারা। এরপর থেকে জেসিপিওএ’র আর কোনও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেনি। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র জেসিপিওএ’র অংশগ্রহণকারীদের জন্য সংরক্ষিত প্রক্রিয়া অবলম্বন করার মতো অবস্থানে নেই।’ 

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে ২০১৫ সালে একটি চুক্তি হয়েছিল ইরানের। চুক্তিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকার শর্তে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে দেশটিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এগিয়ে নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। এসময় জাতিসংঘও তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের অক্টোবরে সে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কথা কিন্তু বারাক ওবামার সময়ে করা সে চুক্তিকে ‘অসম্পূর্ণ’ ও ‘অন্যায্য’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে সরে যায় ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াতে উঠে পড়ে লাগেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ প্রস্তাব পাস করাতে নির্বাচনে যায় তারা। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক সমর্থনের অভাবে প্রস্তাব পাশে ব্যর্থ হয়। নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রস্তাবে ১১টি দেশ ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। আর এর পক্ষে ও বিপক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র দু’টি করে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ডমিনিকান রিপাবলিক প্রস্তাবটির পক্ষে এবং চীন ও রাশিয়া এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। আর বাকি কোনো দেশ ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি।