গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের জেরে ভারত-চীনের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। একে অপরের প্রবল বৈরী হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী দুই বৃহৎ রাষ্ট্র। সরকারি পর্যায়ে একে অন্যকে দমন করার কূটকৌশল আঁটছে তারা। তবে এক বিরল ব্যতিক্রম দেখা গেল চীনা জনগণের মধ্যে। লাদাখ সংঘর্ষের তিন মাস পর এক জরিপের বরাত দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী চীনে অনেক বেশি জনপ্রিয়। জনপ্রিয়তায় তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সমান।

চীনের সরকারি মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসের এক জরিপের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম জিনিউজ ও ডিএনএইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ শতাংশ চীনা নাগরিক জানিয়েছেন, তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পছন্দ করেন।

জরিপে দেখা গেছে, চীনের অর্ধেক লোক বেইজিংয়ের কর্মকাণ্ডে খুশি হলেও বাকি অর্ধেক ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বেশি পছন্দ করেন। ৭৯ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, ভারতের নাগরিকদের মধ্যে চীনবিরোধী মনোভাব প্রবল। ৩০ শতাংশ মনে করেন, চীন-ভারত সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে আবার। ৯ ভাগ লোকের ধারণা, সম্পর্কের উন্নতি হলেও সেটা বেশিদিন স্থায়ী হবে না। ২৫ শতাংশ বলেছেন, সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটবে এবং তা দীর্ঘদিন এই বন্ধন অটুট থাকবে।

এরই মধ্যে চীনের বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে ভারতের জনগণের মনোভাব জেনেও তাদের পণ্যের প্রসারে সেখানকার প্রধান প্রধান পত্রিকাগুলোয় বিজ্ঞাপন দিয়েছে। তারা এটা বোঝাতে চাইছে যে, এখন যা-ই ঘটুক, চীনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আজকের নয়। আর গত ২০ বছর ধরে তারা ভারতের জনগণের কথা মাথায় রেখেই তাদের পণ্যোৎপাদন করছে।

এদিকে সীমান্ত নিয়ে সংঘর্ষের পরই ভারতে চীনা দ্রব্য বয়কটের ডাক প্রবল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব চীনের অর্থনীতে বেশ ভালভাবেই পড়েছে। ভারতের মতো বিশাল দেশের বাজার হারাতে হয়েছে শি জিনপিং সরকারকে। এর ফলে চীনের সাধারণ নাগরিকদের মনে নিজেদের সরকারের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়ারও সৃষ্টি হয়েছে।