জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে স্বাস্থ্যগত কারণে তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। জাপানের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপালনকারী শিনজোর এ ঘোষণা এই মুহূর্তে বিশ্বের রাজনীতিতে বড় ধরনের ঘটনা। পদত্যাগের ঘোষণা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই আলাপ আলোচনা শুরু হয়ে গেছে অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের তৃতীয়-সমৃদ্ধ দেশটির প্রধানমন্ত্রী কে হতে যাচ্ছেন।

সরকারি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে তার দলীয় পদও চলে যাবে। সে ক্ষেত্রে তার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে আগে দলীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। সেখান থেকে আবারো নির্বাচনের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হবে একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

নতুন প্রধানমন্ত্রী বেছে নেয়ার আগে আবে এবং তার মন্ত্রিসভা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সরকারের কাজ চালিয়ে যাবে। তবে এই মন্ত্রিসভা দেশ চালানোর ব্যাপারে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। দলীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আবের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সাধারণত দলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য এক মাস আগে সময় ঘোষণা করার বিধান রয়েছে। এই ভোটে তৃণমূলের নেতারা ছাড়াও দলীয় এমপিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন। কিন্তু হঠাৎ করে শিনজো আবে পদত্যাগ করায় এখন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দলীয় প্রধান নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কে জাপানের ক্ষমতায় আসছেন, সেটা এখনই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে সম্ভাব্যদের তালিকায় যারা আছেন, তাদের ওপর চোখ বোলানো যায়।

তারো আসো: তারো আসো বর্তমান মন্ত্রিসভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। ৭৯ বছর বয়সী তারো আসো আবের প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আবের উত্তরসূরি হিসেবে এলডিপি সাংসদরা তাকে চোখ বুজে বেছে নিতে পারেন।

শিগেরু ইশিবা: ৬৩ বছর বয়সী ইশিবা সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। দেশটির এক জরিপে তাকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান- এমন আগ্রহীর সংখ্যা প্রচুর। তবে দলের সাংসদদের কাছে তেমন জনপ্রিয় নন তিনি। ২০১২ সালে প্রথম পর্যায়ের ভোটে তিনি শিনজো আবেকে হারিয়েছিলেন। কিন্তু সংসদ সদস্যদের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটে তিনি শিনজোর কাছে হেরে গিয়েছিলেন। আবার ২০১৮ সালে পার্টি ভোটেও তিনি হেরে যান আবের কাছে।

ফুমিও কিশিদা:  হিরোশিমার অনেক সাংসদই আবের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে কিশিদাকে ব্যাপকভাবে দেখে থাকেন। কিন্তু ভোটারদের জরিপে একেবারে তলানিতে তার অবস্থান দেখা যায়। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কিশিদা।

তারো কোনো: ৫৬ বছর বয়সী তারো কোনো যুদ্ধবিরোধী নেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী কোনোর ইংরেজিতে ব্যাপক দক্ষতা রয়েছে। এর আগে তিনি দেশটির পররাষ্ট্র ও প্রশাসনিক সংস্কার বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তিনিও রয়েছেন প্রথম সারিতে।

এছাড়া ৭১ বছর বয়সী  ইয়োশিহিদে সুগারও সম্ভাবনা রয়েছে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পাওয়ার। এরপরও আরো দু’একটা নাম যোগ হতে পারে এই তালিকায়। এরা হলেন শিনজিরো কোইজুমি (৩৯), তোশিমিৎসু মোতেগি (৬৪), কাৎসুনোবু কাতো (৬৪), ইয়াসুতোশি নিশিমুরা (৫৭), সেইকো নোদা (৫৯)। সূত্র: রয়টার্স, জাপান টুডে।