সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান দুর্নীতির অভিযোগে রাজপরিবারের সদস্য দু’জন গুরুত্বপূর্ণ সেনা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন। মঙ্গলবার সকালে এক রাজকীয় ফরমানে এদের পদ থেকে অপসারণ করার কথা ঘোষণা করা হয়। এছাড়া আরো চারজন সেনা কর্মকর্তাকেও তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজ পরিবারের সদস্য যে দু’জনকে অপসারিত করা হয়েছে, তারা হলেন প্রিন্স ফাহদ বিন তুর্কি বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং তার ছেলে প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন ফাহদ। বরখাস্ত হওয়ার আগে প্রিন্স ফাহদ ইয়েমেন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কমান্ডার এবং তার ছেলে আল জওফ অঞ্চলের গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন। রাজকীয় ফরমানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়। খবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, আল জাজিরার।

সৌদি আরবের দুর্নীতি দমন কমিটি ‘নাজাহ’র কাছে পাঠানো এক চিঠির ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানা গেছে। নাজাহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সন্দেহজনক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে। বাকি চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

সৌদি আরবে দুর্নীতি উচ্চতর পর্যায়ে বাসা বেঁধেছে, এমন অভিযোগের কথা এখন প্রায় শোনা যাচ্ছে দেশটির কর্মকর্তাদের মুখে। এই বরখাস্তাদেশ দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেয়া সর্বশেষ পদক্ষেপ।

২০১৭ সালে মুহাম্মদ বিন সালমানকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ঘোষণার পর থেকে এমবিএস হিসেবে বহুল পরিচিত এই যুবরাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে দারুণ তৎপর হয়ে ওঠেন। সে বছরই সৌদি আরবে রাজপরিবারের সদস্য, মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীদের ধরপাকড় শুরু হয়। আটককৃতদের রিয়াদের রিজ-কার্লটন হোটেলে নজরবন্দি করে রাখা হয়। পরে অবশ্য রাষ্ট্রের সঙ্গে একধরনের সমঝোতায় পৌঁছার পরে তাদের অধিকাংশকে মুক্তি দেয়া হয়।

তবে দুর্নীতি দমনের নামে যুবরাজ মুহাম্মদ এসব কর্মকাণ্ড শুরু করলেও সমালোচকরা বলেন, যুবরাজ তার সিংহাসনলাভের পথকে আরো সুগমকরতে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযান চালিয়ে তাদের দুর্বল করে দেন।

১৫ মাস পর রিজ-কার্লটনে বন্দি করে রাখা বন্ধ করা হলেও সৌদি সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা করে। গত মার্চমাসেও সৌদি আরবে ৩০০ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাদের আটক করার কথা জানানো হয়।