মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছে দুই পলাতক সেনা সদস্য; কর্তৃপক্ষের আদেশে তারা এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল।

ওই দুই সেনা সদস্য ভিডিওতে সম্প্রতি এ দায় স্বীকার করে বলে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস জানিয়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে বেঁচে থাকা রোহিঙ্গাদের বক্তব্যের সঙ্গে সেনা সদস্যদের বক্তব্যের মিল পাওয়া গেছে।

সিএনএন বলছে, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে যে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চলেছে, দুই সেনা সদস্যের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে সেনা সদস্যদের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো এটি স্বীকার করে নেওয়া হলো।

মাইয়ো উইন তুন ও জো নাইং তুং নামের এই দুই সেনা সদস্যের ভিডিওটি গত জুলাইয়ে ধারণ করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত আরাকান আর্মি। এটি প্রকাশ করেছে ফোর্টিফাই রাইটস বলেছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তার সত্যতা পাওয়া গেছে।

দুটি ভিডিও প্রকাশ করে ফোর্টিফাই জানিয়েছে, কীভাবে এই সেনা সদস্যরা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তার বর্ণনা দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে নির্যাতনের নানা বিষয় নিয়েও কথা বলেছে।

ভিডিওতে মাইয়ো তুন বলেন, মুসলমানদের তাউং বাজার গ্রামটি আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। যেভাবে নির্দেশনা পেয়েছি সে অনুযায়ী আমরা রাতে অভিযান চালিয়েছি। এক কবরেই আমরা ৩০ জনকে সমাহিত করেছি।

স্বীকারোক্তি দেওয়া দুই সেনা সদস্যের বক্তব্য নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ওই দুই সেনা সদস্য এখন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তদন্ত চলা চলা হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ তথ্যে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

ফোর্টিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিও স্মিথ এক বিবৃতিতে বলেছেন, রোহিঙ্গা এবং মিয়ানমারের জনগণের চলমান ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে এটি একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।

রাখাইনে নির্যাতন ও নির্মমতার দায় স্বীকার করে জুলাইতে ভিডিওতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর সর্বশেষ আগস্টে ওই দুই সেনাকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে দেখা গিয়েছিল। তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হেফাজতে রয়েছে বলে ফোর্টিফাই দাবি করলেও আদালতের পক্ষ থেকে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।