দীর্ঘ তিন মাস ধরে ভারত ও চীন সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। এরইমধ্যে সোমবার মধ্যরাতে লাদাখ সীমান্তে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ভারতীয় সেনারা লাদাখ সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পার করে গুলি চালিয়েছে।

চীন জানিয়েছে, চীনা সীমান্ত রক্ষীরা ওই পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে ‘ওয়ার্নিং শট’ বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে চীনের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারত। দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, কোন অবস্থাতেই ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করেনি। তারা কোন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপও নেয়নি। তারা বলেছে, চীনের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী নিজেরাই গুলি ছুড়েছে। এসময় ভারতীয় সেনাবাহিনী ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলে নিয়েছে। খবর এএনআইয়ের

সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝা লিজিয়ান বলেছেন, ভারতীয় সেনারা অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণরেখা পার করে চীনের প্যাংগ তসোর দক্ষিণ দিকে প্রবেশ করে। পরামর্শের জন্য সেখানে উপস্থিত আমাদের সীমান্তের টহলরত সেনাদের লক্ষ্য করে ভারতীয় সেনারা সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। আমাদের সেনাবাহিনী পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়।

তিনি বলেন, ভারত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এটি মারাত্মক সামরিক উস্কানি। আমরা তাদের অবিলম্বে বিপজ্জনক পদক্ষেপ বন্ধ করতে, লাইন অতিক্রমকারী সেনাদের প্রত্যাহার এবং ফ্রন্টলাইন সেনাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করার অনুরোধ জানিয়ছি।

এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনী বলেছে, চীনা সেনারা নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর আমাদের সেনাবাহিনীর অবস্থানের কাছাকাছি এসেছিল এবং তারা ভয় দেখানোর চেষ্টায় কয়েক দফা বাতাসে গুলি চালায়। দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক স্তরে যখন সবাই ব্যস্ত তখন চীন চুক্তি লঙ্ঘন করে আক্রমণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

গত জুনে মাসে লাদাখের গালওয়ানে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা মারা যায়। চীনের সেনারও হতাহতের খবর দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কতজন সেনা মারা গেছে তা নিশ্চিত করেনি চীন। এরপর থেকেই সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। 

গত শনিবার ভারতীয় সেনা প্যাংগং লেকের দক্ষিণে একাধিক পাহাড়ের চূড়া দখল করে নেওয়ার পরে চুশুল সেক্টরে সেনা বাড়াতে শুরু করে চীন। লেকের দক্ষিণে মলডোর কাছে অতিরিক্ত ট্যাঙ্কবাহিনী মোতায়েন করেছে তারা। পাল্টা জবাবে রেচিন লায় স্পর্শকাতর উঁচু স্থানগুলি দখল করে সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে ভারতও।