করোনাভাইরাস যে কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, সেটা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের দিকেই বুঝেছিলেন। কিন্তু তিনি চাননি এটা নিয়ে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক। তাই রোগটিকে তেমন পাত্তা দিতে চাননি। পুলিৎজার বিজয়ী সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড তার নতুন বই রেইগ-এ এমন দাবি করেছেন। গত মঙ্গলবার বব উডওয়ার্ডের বইটি প্রকাশিত হয়। 

মহামারি আকারে শুরু হওয়ার আগে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয় ট্রাম্পের। তখনই ট্রাম্প বায়ুবাহিত এই ভাইরাসটির কথা জানতে পারেন। ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখে বব উডওয়ার্ডের কথা হয় ট্রাম্পের। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত মোট ১৮ বার কথা হয় তাদের মধ্যে।

ট্রাম্প বব উডওয়ার্ডকে বলেন, এটা বাতাসে ছড়িয়ে বেড়ায়, বব। তুমি নিঃশ্বাস টানবে, অমনি এটা তোমার নাক দিয়ে ঢুকে যাবে। এটা খুবই সূক্ষ্ম আর জটিল। আর এটা খুবই মারাত্মক একধরনের ফ্লু।

কিন্তু এতসব জেনেও ট্রাম্প সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে এটাকে উপেক্ষা করতে থাকেন। ফেব্রুয়ারিতে এ বিষয়ক সমাবেশে অংশ নেন তিনি। প্রেস কনফারেন্সে যোগ দেন। তখন সবেমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে প্রাদুর্ভাব ঘটতে শুরু করেছে এই ভাইরাসের। কিন্তু ট্রাম্প এটাকে ‘ধাপ্পাবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বলতে থাকেন, কদিন বাদেই ফ্লু’টা নিজে নিজেই চলে যাবে।

১৯ মার্চ, করোনাভাইরাসকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণার পর ট্রাম্প উডওয়ার্ডকে বলেছিলেন, তিনি করোনার ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলতে চান না। তিনি বলেন, তিনি কখনো এটাকে বড়ধরনের কিছু বলে মনে করতে চান না। আসলে তিনি চান না, এ নিয়ে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হোক।

২১ জুলাই বব উডওয়ার্ডের সঙ্গে সর্বশেষ ইন্টারভিউতে ট্রাম্প বলেন, ভাইরাসটি আমার কিছু করতে পারবে না। আর এর জন্য আমি দায়ী নই। এই সাক্ষাৎকারের বিষয়টি ওয়াশিংটন পোস্টে এসেছিল প্রতিবেদন আকারে।

বব উডওয়ার্ডের বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর বুধবার ট্রাম্প বলেন, এই বইটি রাজনৈতিকভাবে হটকেক হতে পারে। সত্যি বলতে কী, আমি তাকে কিছু কথা বলছিলাম। এখন দেখতে পাচ্ছি, এটা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প বলেন, তিনি বইটি এখনো দেখেননি।

ট্রাম্প নিজেকে তার দেশের জন্য একজন চমৎকার নেতা হিসেবে দাবি করেন। তিনি বলেন, তিনি চাননি যে, বিষয়টি নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হোক। তার মতে, এই পরিস্থিতিটা খুবই বিব্রতকর।  

তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আগে ভাগে ব্যবস্থা নিলে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যুসংখ্যা আরো কম রাখা যেত কিনা? ট্রাম্প বলেন, আমরা চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে আক্রান্ত হওয়া ও প্রাণ হারানো থেকে বাঁচিয়েছি।

বুধবার প্রেস সেক্রেটারি কেলিফ ম্যাকএনানি বলেন, প্রেসিডেন্ট কখনো আমেরিকার জনগণের সঙ্গে মিথ্যে কথা বলেননি। সূত্র : ইউপিআই।