চীনা গোয়েন্দাদের আগে থেকে ভয় করতো যুক্তরাষ্ট্র। ২০২০ সালের ২৯ মে প্রেসিডেন্টে ট্রাম্পের এক ঘোষণায় নিরাপত্তাজনিত কারণে চীন থেকে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে স্থগিতাদেশ দেয়ার কথা বলা হয়।

নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প প্রশাসন এবার কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্টের ঘোষণার আওতায় ২০২০ সালের ৮ মে এক হাজারের বেশি চীনা নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়। 

অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও গবেষণা পাচারের আশঙ্কায় আগে থেকেই চীনের মিলিটারি ফিউশন স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে যুক্ত গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা দেওয়া হচ্ছিল না।

চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বাণিজ্যযুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে আগে থেকেই নড়বড়ে। চলতি বছর করোনাভাইরাসের জন্য চীনকে দায়ী করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তপ্ত সম্পর্ককে আরো উত্তপ্ত করে তোলেন। যুক্তরাষ্ট্র চীনকে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণা চুরিসহ অনৈতিক বাণিজ্যের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বিদেশিদের জন্য ভিসা দেয়ার যে ব্যবস্থা রয়েছে, চীন তারও অপব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, দু’দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈরিতার বিষময় ফল ভোগ করতে হচ্ছে  উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া লাখ লাখ চীনা শিক্ষার্থীকে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বন্দরে এখন চীনা শিক্ষার্থী দেখলেই সন্দেহের চোখে তাকানো হয়। তাদের হয়তো পাচারকারী নয়তো গোয়েন্দা হিসেবে ধরা হয়। এমন নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় চীনা সরকারি বৃত্তি নিয়ে গবেষণা করতে আসা ১৫ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে চুক্তি মাঝপথে বাতিল করে দিয়েছে।

এফবিআই-এর পরিচালক ক্রিস্টোফার রে সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেছেন, তারা এখন প্রতি ১০ ঘণ্টায় এমন অন্তত একটি সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা খুঁজে পাচ্ছেন, যার সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। জুলাইয়ে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেটটি গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, এমন অভিযোগ এনে তা বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

এক হাজারেরও বেশি চীনা নাগরিকের ভিসা বাতিলকে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঝাও লিজিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘নগ্ন’ রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেন। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চীন এর পাল্টা জবাব দিতে জিানে।

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ ৬০ হাজার চীনা ছাত্র লেখাপড়া করে থাকে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর ভালই আয় হয়ে থাকে। তবে এবারে হেমন্তকালীন সেমিস্টারে চীনা ছাত্রদের অনুপস্থিতিতে তা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়।