চীনের টার্গেট এবার উৎসুল মুসলিম

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

চীনের জিনজিয়ান প্রদেশে উইঘুর মুসলমানদের ওপর অত্যাচারের খবর এখন সারা বিশ্বে। চীন অবশ্য স্বীকার করছে না। তবে প্রচার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তা ফাঁস হয়ে পড়ছে। অনেক দেশই চীনের এ আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। 

এবার দেশটির হাইনান প্রদেশের সংখ্যালঘু উৎসুল মুসলিমদের ওপর অত্যাচারের খবর পাওয়া গেল। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎসুলরা সব মিলিয়ে ১০ হাজার মানুষের একটি জনগোষ্ঠী। তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের কারণে চীন সরকারের রোষানলে পড়েছে তারা।
 
উৎসুলদের মধ্যে রয়েছে আরবি সংস্কৃতির প্রভাব। মেয়েরা স্কুলে যায় হিজাব পরে। তাদের এই ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বিদ্যালয় এবং অফিসে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশনামায় বলা হয়েছে, তাদের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে এবং ধর্মীয় আচার আচরণের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে।

কিন্তু এই বিধিনিষেধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে উৎসুলরা। চলতি মাসের শুরুর দিকে বিদ্যালয়ে হিজাব পরিধান নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে। চীনা সোশাল মিডিয়ায় প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, তিয়ানিয়া উৎসুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে হিজাব পরিধান করা পাঠ্যবই হাতে একদল মেয়েকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

উৎসুল সস্প্রদায়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য বলেছেন, 'সরকারের ইচ্ছা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে কেউ যেন অফিস-আদালতে কিংবা স্কুলে না যায়। কিন্তু আমরা আমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরতে চাই। আমাদের কাছে হিজাব পোশাকের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, আমাদের সংস্কৃতির অংশ। যদি হিজাব পরিধান বন্ধ করি, তাহলে সেটা আমাদের পোশাক খুলে ফেলার মতোই হবে।’

শুধু হিজাব নয়, উৎসুল মেয়েদের লম্বা স্কার্ট পরার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, স্কার্ট কোনোভাবেই হাঁটুর নিচে নামবে না।

শুধু পোশাকই নয়, সরকার নির্দেশ জারি করেছে, মসজিদগুলোর আকার ছোট হতে হবে এবং মসজিদ তৈরি কিংবা মেরামতে আরবি স্থাপত্যের অনুসরণ করা যাবে না। যেসব মসজিদে আরবি লেখা রয়েছে, সেগুলো মুছে ফেলতে হবে।

এ ধরনের নির্দেশ প্রথমে জিনজিয়াং প্রদেশে জারি করা হয়। পরে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

২০১৮ সালে চীনের স্টেট কাউন্সিল মসজিদ তৈরিতে নানা শর্ত আরোপ করে। এমনকি মসজিদগুলো আরবীয় ধরনের না হয়ে সেগুলো প্যাগোডার ধাঁচেই তৈরি করার কথা বলা হয়।

উৎসুল সম্প্রদায়ের অনেকেই জানান, তারা এসব অন্যায্য বিধি মেনে চলবেন না। তারা নিজেদের ধর্মীয় নির্দেশেই চলবেন।