অনুমোদন ছাড়াই গণহারে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করছে চীন: প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সব ধাপ পেরোনোর আগেই চীন করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করেছে, এ খবর জুনেই পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি জানা গেছে, অনুমোদন পাওয়ার আগেই দেশের হাজার হাজার মানুষের ওপর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করছে চীন। এমনকি এই তথ্য যেন প্রকাশ্যে না আসে তার জন্য যাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে তাদের সঙ্গে একটি গোপন চুক্তি হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মী, প্রতিষেধক প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্মী, শিক্ষকসহ হাজার হাজার মানুষের শরীরে অনুমোদন ছাড়াই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। 

প্রথমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলির কর্মীদের ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হয়েছে। এরপর দেওয়া হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা এবং ভ্যাকসিন সংস্থার কর্মীদের। সবশেষে দেওয়া হয়েছে শিক্ষক, সুপারমার্কেটের কর্মচারী এবং বিদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে ভ্রমণকারীদের। 

তবে এ ধরনের অভিযোগ নাকচ করেছে চীন। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের শরীরে ওই ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। 

এদিকে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, অনুমোদন ছাড়া এ ভ্যাকসিনের ব্যবহার মানুষের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত জটিলতা তৈরি করতে পারে।

এই মুহূর্তে চীন ১১টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। এর মধ্যে চারটির পরীক্ষা তৃতীয় পর্যায়ে চলছে। এর মধ্যে দুটি তৈরি করছে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ‘চীন ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ', একটির দায়িত্বে সিনোভ্যাক বায়োটেক। অন্য পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনটি তৈরি করছে ক্যানসিনো বায়োলজিক্স, আর সেই ভ্যাকসিনই গত জুনে সেনা সদস্যদের উপর প্রয়োগের ছাড়পত্র পেয়েছিল চীন।

মূলত চীনের বাইরেই সেগুলোর ট্রায়াল চলছে। যাদের ওপর এই ট্রায়াল চলছে, তাদের শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটছে সেদিকে নজর রাখা হয়েছে। 

তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবীদের বাইরে সাধারণ মানুষদের শরীরেও এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। এই গোটা প্রক্রিয়াটাই চলছে গোপনে। 

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে ট্রায়াল পেরোতে গেলে অনেক সময় লেগে যেতে পারে। এর জন্য মানুষের জীবন বাজি রাখছে চীন। ভ্যাকসিন প্রয়োগের আগে প্রথমে সাধারণ মানুষকে দিয়ে ‘ননডিসক্লোজার’ চুক্তি স্বাক্ষর করিয়ে নিচ্ছে তারা, যাতে বিষয়টি কেউ সংবাদমাধ্যমে বলতে না পারে।

এখন পর্যন্ত ঠিক কতজনের ওপর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে একেবারে শেষ পর্যায়ে করোনার প্রতিষেধক নিয়ে গবেষণা করছে চীনের যে সরকারি সংস্থা, সেই সিনোফার্ম জানিয়েছে, কয়েক হাজার মানুষের শরীরে ইতোমধ্যে ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। 

অন্য একটি সংস্থা সিনোভ্যাক জানিয়েছে, শুধু বেইজিংয়েই ১০ হাজারের বেশি মানুষের ওপর তাদের তৈরি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। ওই সংস্থার সব কর্মী ও তাদের পরিবারের লোকজন মিলিয়েই কমপক্ষে তিন হাজার জনের ওপর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে।

ট্রায়ালে উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই ব্যাপক হারে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন প্রয়োগের এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। 

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের মারডোক চিলড্রেনস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. কিম মুলহোল্যান্ড বলেছেন, ভ্যাকসিন সংস্থার কর্মীদের জন্য আমি উদ্বিগ্ন। কারণ ভ্যাকসিন নিতে অস্বীকার করা তাদর জন্য কঠিন ব্যাপার।

এদিকে, চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের কর্মকর্তা ঝেং ঝোংওয়েই অভিযোগ অস্বীকার করে শুক্রবার দাবি করেছেন, এই ভ্যাকসিনের ব্যাপারে জুন মাসেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কর্মকর্তাদের জানিয়েছিল বেইজিং। তাদের কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরেই জুলাই মাস থেকে ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের এই ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হয়েছে। 

পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে ডব্লিউএইচওকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা।