পাকিস্তানে গ্রেপ্তার দুই শীর্ষ বিরোধী নেতা আসিফ জারদারি ও শাহবাজ শরিফ

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের দুই শীর্ষ বিরোধী নেতা আসিফ আলি জারদারি ও শাহবাজ শরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও তার বোন ফরয়াল তালপুর ও পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন এর সভাপতি শাহবাজ শরিফকে অর্থ তছরুপ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, বিরোধিতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর ডন অনলাইনের 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগ দাবিতে আগামী মাসে অভিন্ন  কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দেশটির বিরোধী দলগুলো। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, বিরোধীদের সঙ্ঘবদ্ধ কর্মসূচি ভেস্তে দিতেই দুর্নীতির মামলাকে সামনে রেখে পরিকল্পিত ভাবে এই ধরপাকড় শুরু হয়েছে।

আসিফ আলি জারদারির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ ছিল, ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিনি এবং তার বোন বেআইনি ভাবে সম্পদ বাড়িয়েছেন।  ওদিকে শাহবাজ শরিফের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে আনা চার্জশিটের বিরোধিতা করে আবেদন করেছিলেন।   তবে আদালতে তাদের আবেদন গ্রাহ্য হয়নি।

এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর তোশাখানা রেফারেন্স নামে অপর এক মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তান পিপল’স পার্টির (পিপিপি) কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলি জারদারি ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে পলাতক ঘোষণা করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকেও। রায় ঘোষণার সময় পাক আদালত নওয়াজ শরফিকে এক সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের সময়সীমা বেঁধে দেয়। আত্মসমর্পণের আদেশ বাতিল করতে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন নওয়াজ শরিফ। বর্তমানে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন।

এদিন আদালতের রায় ঘোষণার পর পাকিস্তান পিপল’স পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি বলেন, বিশ্বজোড়া মহামারির মধ্যেও পাকিস্তানে বিরোধীরা রাজনৈতিক হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। তিনি জানান, বিগত দু-বছর ধরে জারদারি ও তালপুর আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।

অন্যদিকে শাহবাজ শরিফকে সোমবার লাহোর হাইকোর্ট চত্বর থেকে গ্রেফতার করা হয়। ৭০০ কোটির অর্থ তছরুপ মামলায় এদিন হাইকোর্টে শুনানি ছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে তিনি ৭০০ কোটি টাকা তছরুপ করেছেন।