মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ট্রাম্প, কৌশলে এগিয়ে বাইডেন

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

রিপাবলিকান প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন - ফাইল ছবি

রিপাবলিকান প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন - ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১৬ দিন। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও জমে উঠেছে প্রচার। করোনা থেকে সেরে ওঠা রিপাবলিকান প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই জনসমাবেশ ঘটিয়ে চলেছেন একের পর এক। তবে মহামারিকে মাথায় রেখে স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দিয়ে কৌশলে প্রচার চালাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন। তিনি জনমত জরিপগুলোতে ট্রাম্পের চেয়ে ১০ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এদিকে অনেক রিপাবলিকান নেতা ও ট্রাম্প প্রশাসনে কাজ করা সাবেক আমলা প্রেসিডেন্টকে এড়িয়ে চলছেন।

স্থানীয় সময় শনিবার মিশিগান এবং উইসকনসিনে নির্বাচনী প্রচার চালানোর কথা ট্রাম্পের। আগের দিন শুক্রবার ফ্লোরিডা এবং জর্জিয়ায় বড় বড় জনসমাবেশ করে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন তিনি। এই চারটি রাজ্যেই ২০১৬ সালের নির্বাচনে জিতেছিলেন ট্রাম্প। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে, মিশিগান এবং উইসকনসিনে জয় পেতে চলেছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

মিশিগান, উইসকনসিন এবং পেনসিলভানিয়া (গত নির্বাচনে এ রাজ্যটিতেও জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প), এ তিন রাজ্যকে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে তার প্রচার শিবির। তবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি আরিজোনা ও জর্জিয়াতেও জোর প্রচার চালাচ্ছে ট্রাম্প শিবির। সোমবার আরিজোনায় জনসমাবেশ করবেন ট্রাম্প।

মহামারি শুরুর পর থেকে ঘরেই ছিলেন বাইডেন। তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনিও বিভিন্ন রাজ্য ঘুরে প্রচার শুরু করেন। শনিবার ট্রাম্প দুটি রাজ্যে নির্বাচনী সভা করার সিদ্ধান্ত নিলেও বাইডেন এদিন ডেলওয়ারে জনসংযোগ করবেন। বাইডেনের রানিংমেট কমলা হ্যারিস অবশ্য কয়েক দিন প্রচার এড়িয়ে চলছেন। কমলার একজন সহকারী করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় এ সতর্কতা অবলম্বন করছেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতা ততই ট্রাম্পের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন। ট্রাম্পের সম্ভাব্য পরাজয়ে তারা অংশীদার হতে চান না বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে জনমত জরিপে এগিয়ে থেকেও অতি আশাবাদী না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে এগোচ্ছে বাইডেন শিবির।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউস ডেমোক্রেটিক পার্টির দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের নাগরিক প্রণোদনা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন সিনেটে রিপাবলিকানদের নেতা সিনেটর মিচ ম্যাককনেল। আরেক সিনেটর বেন স্যাসে নানা বিষয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা করে সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর চার্লি বেকার প্রেসিডেন্টের করোনাভাইরাস মোকাবিলা পদ্ধতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, তিনি এবার ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না।

শুধু আইনপ্রণেতারা নন, ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কয়েকজন আমলাও প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনা করেছেন। হোয়াইট হাউসের সাবেক চিফ অব স্টাফ জন কেলি বলেছেন, 'ট্রাম্পের মতো খারাপ মানুষ' আর একজনকেও দেখেননি তিনি। সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী রিক ব্রাইট এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জেনারেল কাউন্সেল জন মিটনিক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য অযোগ্য ট্রাম্প।

'নির্বাচনে হারলে হয়তো দেশ ছাড়তে হবে': শুক্রবার ফ্লোরিডার ওকালায় জনসমাবেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রকে কমিউনিস্ট রাষ্ট্র বানিয়ে ছাড়বে। এ সময় ডেমোক্র্যাটদের তিনি 'ধনী উন্মাদ উদারতাবাদী' বলে উল্লেখ করেন। একই দিনে জর্জিয়ার ম্যাকোনে দেওয়া ভাষণে প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেনকে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এরপর ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেনের কাছে হেরে গেলে তাকে হয়তো দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে।

অন্যদিকে, শুক্রবার মিশিগানে নির্বাচনী প্রচারে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ট্রাম্পের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেছেন বাইডেন। তিনি বলেন, 'করোনা হঠাৎ চলে যাবে বলে প্রচার চালিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু আমরা দেখছি, মহামারি তো যায়নি বরং সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করেছে।' এ সময় ট্রাম্পকে পরিচয় দিতে গিয়ে বাইডেন বলেন, যিনি আশার বদলে ভয়, একতার বদলে বিভেদ, বিজ্ঞানের বদলে গালগল্প এবং সত্যের বদলে মিথ্যাকে বেছে নেন, তিনিই আমাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএন।