যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন: ডাকে ভোট দেওয়া নিয়ে দুই দলের বাকবিতণ্ডা

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২০   

নিউইয়র্ক সংবাদদাতা

করোনা পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশটির বিপুল সংখ্যক মানুষ ডাকযোগে ভোট দিচ্ছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ডাক মারফত ভোট হলে তাতে ব্যাপক কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে তাল দিলে এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন রিপাবলিকান নেতা-কর্মীরাও। এদিকে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন বিপরীত কথা। তারা বলছেন, ডাকযোগে ভোট দেওয়া সময়ের দাবি, এই নিয়ম নতুন নয়। এতে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই বলেও দলটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন মনে করেন।

কুইন্সের অধিবাসী ৫৭ বছরের গিল বাডস মনে করেন,  যারা বাইরে গিয়ে ভোট দিতে চান, সেই সুযোগতো রয়েছেই। কিন্তু করোনার কারণে ডাকযোগে ভোট নিয়ে এত আপত্তি থাকার কিছু নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলো এতটাই শক্তিশালী যে, এতে জালিয়াতির কোনো সুযোগ দেখেন না তিনি। এবার ডাকযোগে ভোটে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে। ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সালের গৃহযুদ্ধের সময় থেকে ডাকযোগে ভোটের প্রথা চালু হলেও ট্রাম্পের দাবি, এটা একেবারে নতুন বিষয়। ট্রাম্প একজন হাস্যকর প্রেসিডেন্ট।

এরইমধ্যে অনেক মানুষ আগাম ভোট দিতে শুরু করেছেন। অনেক প্রদেশে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েও ভোট দিচ্ছেন তারা। ফলে করোনা মহামারিতে মানুষ বাইরে বের হবে না, এটাও পুরোপুরি ঠিক নয়। এমন দাবি করেছেন রিপাবলিকান ব্রকলিনের ৫০ বছর বয়সী তাবেত আলী। তিনি বলেন,  ডাকযোগে মানুষের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়। এটি ওই ব্যক্তিই ভোট দিয়ে সই করে পাঠাচ্ছেন কিনা, এ নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এতে একজনের ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।    

জ্যামাইকার আইনজীবী ব্যাটেল পাওয়ার বলেন,  ডাক ভোট গণনা শেষ হলেও, তার ফলাফল নিয়ে আপত্তি উঠতে পারে, যা গড়াতে পারে আদালত পর্যন্ত। তার উপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মেয়াদেই সুপ্রিম কোর্টের তৃতীয় বিচারপতি মনোনয়ন দিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২২ অক্টোবরের সিনেট ভোটের পর বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটের নিয়োগ চূড়ান্ত হবে। সেক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে রক্ষণশীল ও উদারপন্থীদের সংখ্যা হবে ছয় এবং তিন। এ নিয়েও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।  

সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা গেছে, তিন-চতুর্থাংশ রিপাবলিকান সশরীরে আর ৫০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মেল ইন পদ্ধতিতে ভোট দিতে চান। এই বিষয়টি সামনে এনে নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট শেখ সজীব বণিক বলেন, ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ায় বাধা দিতেই এমন চাপ তৈরির চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার অভিযোগের কোনো ভিত্তিও নেই বলে মনে করেন তিনি।  

আবার অনেকে বলছেন, ডাকযোগে ভোট দিলে ভোট গণনায় বিলম্ব হতে পারে। কারণ ডাকযোগে দেওয়া সব ভোট সময়মতো পৌঁছানোর ব্যাপারে নিশ্চয়তা পোস্টাল সার্ভিস- ইউএসপিএস কি দিতে পারবে, এমন প্রশ্নও উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০০ সালে ফ্লোরিডার ভোট নিয়ে আল গোর এবং জর্জ বুশের সময়কার নির্বাচন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। আদালতের রায়ে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী জর্জ বুশ। দেশের ৪৬টি রাজ্য সরকার ও ওয়াশিংটন ডিসির নির্বাচন অফিসকে এক চিঠিতে ডাক বিভাগ এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল। কেননা আগের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি সংখ্যায় মানুষ যদি ডাকযোগে ভোট দেয়, সেই চাপ সামলানো ডাকবিভাগের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে।

পরে যদিও নির্বাচনে ডাকযোগে ব্যালট পেপার পরিবহনে ইউএস পোস্টাল সার্ভিস-ইউএসপিএস ‘সবদিক দিয়ে সক্ষম এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লুইস ডে জয়। ২১ আগস্ট শুক্রবার সিনেটে এক শুনানিতে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

সব স্টেইটই কোনো-না-কোনোভাবে ডাকযোগে ভোট দেওয়া যায়। তবে ওরেগন, ইউটাহ, হওয়াই, ওয়াশিংটন এবং কলোরাডো-এই পাঁচটি স্টেটে শতভাগ ভোট ডাকযোগে দেওয়া সম্ভব। বাকি স্টেটগুলোতেও ডাকযোগের বিধান রয়েছে।