যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

জরিপের ফল কি এবারও উল্টে দেবেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২০   

সাজ্জাদ হোসেন শান্ত

ডোনাল্ড ট্রাম্প চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে জনমত জরিপ। ওই বছরের আগে কখনোই জনমত জরিপ নিয়ে একমুখী সন্দেহ প্রকাশ করেনি কেউ। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও কি জনমত জরিপের গ্রহণযোগ্যতা থাকবে? স্বাভাবিকভাবেই সে প্রশ্ন উঠেছে এবার।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন অন্তত ১০ শতাংশ ব্যবধানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তবে ডেমোক্র্যাট প্রচার শিবির জরিপের ফলে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সমর্থকদের। জরিপের চেয়ে মাঠের প্রচারের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে দলটি।

যুক্তরাষ্ট্রে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের ভোটেই (পপুলার ভোট) কেউ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না। তাকে অর্ধেকের বেশি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেতে হয়। এ নির্বাচনে যেমন বাইডেন, তেমনি ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন তখনকার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। তিনি ট্রাম্পের চেয়ে পপুলার ভোট বেশি পেয়েও হেরেছিলেন প্রয়োজনীয় ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়ে।

ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলাইনা, অ্যারিজোনা, উইসকনসিন, পেনসিলভানিয়া ও মিশিগান- হোয়াইট হাউসে যেতে এবার এ রাজ্যগুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এ রাজ্যগুলোকে বলা হচ্ছে সুইং স্টেট। যেখানে এককভাবে কোনো দল জনসমর্থনে এগিয়ে নেই। ২০১৬ সালের নির্বাচনে এ ছয়টি রাজ্যেই হিলারিকে হারিয়ে জিতেছিলেন ট্রাম্প। যদিও জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন হিলারি।

জরিপ সংস্থা ইপসোসের কর্মকর্তা ক্রিস জ্যাকসন বলেন, গত নির্বাচনে সুইং স্টেটগুলোর জরিপ সঠিকভাবে উঠে আসেনি। তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছেন। তিনি বলেন, কলেজ ডিগ্রি নেই এমন শ্বেতাঙ্গরাই গত নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ে নির্ধারকের ভূমিকা পালন করেছেন। নির্বাচনের আগের জরিপগুলোতে নমুনার এ অংশটি খুব একটা আমলে নেওয়া হয়নি। তবে জরিপ সংস্থাগুলো বলেছে, এ নির্বাচনে তারা এসব বিষয় শুধরে নিয়েছে।

২০১৬ সালের নির্বাচনের পর ৮ নভেম্বর কেন্দ্রফেরত জরিপ প্রকাশ করেছিল দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। তাতে দেখা গেছে, ৪৫ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ কলেজ-স্নাতক হিলারিকে ভোট দিয়েছিলেন। বিপরীতে ৪৯ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ কলেজ-স্নাতক ভোট দিয়েছিলেন ট্রাম্পকে। কলেজে যাননি এমন শ্বেতাঙ্গদের ২৮ শতাংশ হিলারিকে এবং ৬৭ শতাংশ ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। তবে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে যারা কলেজ স্নাতক বা স্নাতক নন, তাদের একচেটিয়া ভোট পেয়েছিলেন হিলারি ক্লিনটন।

বর্ণনিরপেক্ষভাবে হাইস্কুল পর্যন্ত বা তার কম পড়াশোনা করেছেন, এমন ভোটারদের ৫১ শতাংশের ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প এবং হিলারি পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ ভোট। কলেজ পর্যন্ত পৌঁছেছেন কিন্তু ডিগ্রি নেননি এমন ভোটারদের ৫২ শতাংশের সমর্থন পেয়েছিলেন ট্রাম্প এবং ৪৩ শতাংশের সমর্থন পেয়েছিলেন হিলারি। তবে কলেজ-স্নাতক বা তার চেয়ে উচ্চ ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেশিরভাগ ছিলেন হিলারির ভোটার।

জ্যাকসনের কথা অনুযায়ী জরিপ সংস্থাগুলো যে বিষয়ে নজরই দেয়নি, নমুনার (স্যাম্পল) সেই অংশ ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে ভোটের ফল বদলে দিয়েছে। কম শিক্ষিত শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে উগ্র-জাতীয়তাবাদ ছড়িয়ে ট্রাম্প নির্বাচনে জিততে সক্ষম হয়েছিলেন।

২০১৬ সালে হিলারির এগিয়ে থাকার জনমত জরিপ এবং ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি এবার ভোলেনি ডেমোক্র্যাট শিবির। জরিপে যেভাবে বাইডেন এগিয়ে রযেছেন, বিশেষ করে সুইং স্টেটগুলোতে, তা দেখে সমর্থক ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের বিভ্রান্ত না হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোট না দেওয়া পর্যন্ত সমর্থকদের সুইং স্টেটগুলোর জরিপ নিয়ে উৎসাহী না হতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস অবশ্য হিসাব কষে বলছে, রাজ্য ধরে ধরে করা তাদের জনমত জরিপ যদি চার বছর আগের মতো ভুলও হয়, তবুও বাইডেন জয়ী হতে পারেন। পত্রিকাটির সাংবাদিক ন্যাট কোন লিখেছেন, তাদের জরিপ অনুযায়ী শুধু টেক্সাসে জিতলেই মোট ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের ৪০০টি পাবেন বাইডেন। ট্রাম্প যদি ঐতিহ্যবাহী সুইং স্টেট হিসেবে খ্যাত পেনসিলভানিয়া বা নেভাদায় জেতেন, তাহলেও বাইডেনই জয় পাবেন না। দুই দলের ঘাঁটি এলাকাগুলোর ভোট হিসাব করেই এমন সমীকরণ দিয়েছেন ন্যাট কোন। যদিও গত নির্বাচনে টেক্সাসে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ২০১৬ সালের জরিপের উল্টো ফল ডেমোক্র্যাটদের এতটাই অনিশ্চতায় ফেলেছে যে, কোনো সমীকরণেই তারা আর সন্তুষ্ট হতে পারছেন না।