জিহাদ ওয়াচের প্রতিবেদন

সাজিদ মীরকে আশ্রয় দিয়েছে পাকিস্তান

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

সন্ত্রাসবিরোধী আর্থিক সংস্থা এফএটিএফের ‘ধূসর তালিকা’ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। দেশটি জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে তারা। যার মধ্যে সন্ত্রাসে আর্থিক মদদ জোগানো বন্ধ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসবাদীদের কড়া সাজা ঘোষণা -সবই রয়েছে।

তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, দেশটি সন্ত্রাসদমনে কোনও কার্যকরী ভূমিকাই নেয়নি। জঙ্গিদের আর্থিক মদদ দেওয়া বন্ধ তো করেইনি, বরং জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম), জামাত-উদ-দাওয়া (জেইউডি), লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি)-র মতো জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে বার বার সতর্ক করা সত্ত্বেও পাকিস্তান কোনও দমনমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে রয়েছে সন্ত্রাসীদের মদদ ও প্রশ্রয় দেওয়া এবং অর্থ জোগানোর অভিযোগ।

অভিযোগ উঠেছে, ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সাজিদ মীর পাকিস্তানেই নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রয়েছে। জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ছাতার তলায় পাকিস্তানই এখন শীর্ষ জঙ্গিদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত আস্তানা হয়ে উঠেছে।

মুম্বাই হামলার পাশাপাশি সাজিদ মীরের বিরুদ্ধে অন্যান্য দেশে হামলার পরিকল্পনারও অভিযোগ রয়েছে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশে হামলার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এখন এসব দেশই তার বিচার ও শাস্তির জন্য চাপ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

সাজিদ মীর এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন। ফ্রান্সের একটি আদালত সাজিদ মীরকে তার অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত করেছে। ভারত পাকিস্তানের কাছে তার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে। 

তবে এখনও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, কেউই তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি। তারা জানিয়েছে, পাকিস্তানিরা সাজিদ মীর সম্পর্কে কিছুই জানে না বল অজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

জিহাদ ওয়াচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাজিদ মীর সম্পর্কে বেশি কিছু জানা যায়নি। এমনকি তার পূর্বসূরীরাও তার সম্পর্কে বেশি কিছু জানে না। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি ১৬ বছর বয়সে এলইটিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং তারপরে শীর্ষ পর্যায়ে উঠে এসেছেন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি পাকিস্তানে নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন।সেখানে তিনি সেনাবাহিনী কিংবা আইএস সদস্য হয়ে বা এলইটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। 

২০১৮ সালের জুন মাস থেকে পাকিস্তান এফএটিএফের ধূসর তালিকায় রয়েছে। ২০১৯-এর অক্টোবরে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের দেওয়া শর্ত পূরণ করতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে তাদের ধূসর তালিকাতেই রেখে দিয়েছে এফএটিএফ। এরপর থেকেই তাদের বারবার সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সব শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে পাকিস্তানকে। 

এটি আগামী ২১-২৩ অক্টোবর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এফএটিএফের অধিবেশন হওয়ার কথা রয়েছে।