যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শ্রমমন্ত্রী হতে পারেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সিএনএনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বাইডেন শ্রমমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণ করবেন। তবে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের প্রতি তার আগ্রহ নেই। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাইডেনের পাশাপাশি ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর লড়াইয়ে ছিলেন স্যান্ডার্সও।

একই দলের হলেও বিপরীত মেরুর ভাবাদর্শ ধারণ করেন বাইডেন ও স্যান্ডার্স। সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচিত স্যান্ডার্স সাক্ষাৎকারে বলেছেন, 'আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন আমি শ্রমজীবী পরিবারের জন্য কাজ করতে চাই কিনা। তাহলে আমার উত্তর হবে, আমি অবশ্যই তাদের জন্য কাজ করতে চাই।' এরপর স্যান্ডার্সের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি বাইডেন প্রশাসনের শ্রমমন্ত্রী হতে চান কিনা। জবাবে তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা শ্রমজীবী পরিবারগুলোর জন্য আমি সবকিছু করতে রাজি আছি।'

মঙ্গলবার সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের শ্রমমন্ত্রী হতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ শ্রমিক নেতাদের সমর্থন পেতে প্রচার শুরু করেছেন স্যান্ডার্স। তিনি মূলত বাইডেন প্রশাসনকে শ্রমিকদের স্বার্থে কাজ করতে চাপে রাখতে চান। তবে স্যান্ডার্স ছাড়াও বাইডেন প্রশাসনের শ্রমমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টসের প্রেসিডেন্ট সারা নেলসন, বোস্টনের মেয়র মার্টি ওয়ালশ এবং মিশিগানের প্রগতিশীল প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা অ্যান্ডি লেভিন।

স্যান্ডার্স শ্রমমন্ত্রী হবেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত না হলেও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ মনোনয়ন দিয়েছেন নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বাইডেন। ঘনিষ্ঠ সহযোগী রন ক্লেইনকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে বেছে নিয়েছেন বাইডেন। ১৯৮০-র দশক থেকে বাইডেনের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন ক্লেইন। প্রথমে সিনেটের জুডিশিয়ারি কমিটিতে এবং পরে বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় তার চিফ অব স্টাফ হিসেবে ক্লেইন কাজ করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ও আল গোর ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তার চিফ অব স্টাফও ছিলেন ক্লেইন। হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কর্মসূচি ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। রাজনৈতিক এই নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন লাগে না।

বাইডেনের প্রশাসনে কারা নিয়োগ পাচ্ছেন তার একটি সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশ করেছে সিএনএন। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন সুসান রাইস। ওবামা আমলে তিনি জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত ছিলেন। এ ছাড়া ওবামার নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেছেন এ নারী। সুসান ছাড়াও সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্টনি ব্লিনকেন এবং সিনেটর ক্রিস কুনসের নামও এসেছে। সম্ভাব্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মিশেল ফৌরনয়ের নাম প্রকাশ করেছে সিএনএন। এই নারী ওবামা আমলে সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সিনেটর ডগ জোন্স ও স্যালি ইয়েটসের নাম শোনা যাচ্ছে। স্যালি ইয়েটসকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে বরখাস্ত করেছিলেন রিপাবিলকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।