যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

পরাজয় স্বীকারের দ্বারপ্রান্তে ট্রাম্প

ইলেক্টোরাল ভোট বাইডেন ৩০৬ ট্রাম্প ২৩২

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২০     আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল ডেস্ক

ভোটের পর প্রায় এক সপ্তাহ কার্যত অন্তরালেই ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর মধ্যে তিনি ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে টুইটারে বারবার নিজেকে বিজয়ী বলে দাবি করেছেন। এখন অবশ্য ট্রাম্পের পরাজয় নিয়ে আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই। আদালতেও তিনি সুবিধা করতে পারছেন না। তার মনোজগৎও হয়তো নির্মম বাস্তবতা মেনে নিতে শুরু করেছে। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তাই তিনি অপ্রাসঙ্গিকভাবেই বলে ফেলেন, পরবর্তী প্রশাসন কে চালাবেন 'তা সময়ই বলে দেবে'। এর মাধ্যমে তিনি পরাজয় স্বীকারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো যখন আরও একটি রাজ্যে জয়ের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন ৩০৬টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিত করেছেন। জয়ের জন্য তার দরকার ছিল ২৭০ ভোট। ট্রাম্প পেয়েছেন মাত্র ২৩২টি ইলেক্টোরাল ভোট। ট্রাম্পের চেয়ে বাইডেন ৭৪টি ভোট বেশি পেয়েছেন।

কাকতালীয়ভাবে চার বছর আগের নির্বাচনেও বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ছিল এমনই, ৩০৬ ও ২৩২। ২০১৬ সালের নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে ৩০৬ ইলেক্টোরাল ভোট অর্জনের পর ট্রাম্প তার জয়কে 'ভূমিধস' বলে অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন। বাইডেন সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য জর্জিয়াতেও জয় পেয়েছেন। ১৯৯২ সালের পর এবারই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এ রাজ্যে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেলেন। অন্যদিকে নর্থ ক্যারোলাইনায় জিততে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এ দুটো রাজ্যের ফল ঘোষণাই বাকি ছিল। ৩ নভেম্বর ভোট গ্রহণের ১০ দিন পর চূড়ান্ত ফল পাওয়া গেল। অবশ্যই এই ফলাফলও সরকারি নয়, গণমাধ্যমের প্রক্ষেপণ। তবে এর ব্যত্যয় হওয়ার সুযোগ নেই। আনুষ্ঠানিকভাবে হার স্বীকার না করলেও শুক্রবারই ট্রাম্প প্রথম জানুয়ারিতে একটি সম্ভাব্য নতুন প্রশাসনের দেখা মিলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের এ ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্টকে খানিকটা বিমর্ষ দেখালেও রিপাবলিকান প্রার্থী নিজের পরাজয় স্বীকার করেননি; জো বাইডেনের নামও নেননি।

হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে ওই ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, 'এই প্রশাসন লকডাউন দেবে না। ভবিষ্যতে যাই ঘটুক না কেন, কে জানে সেটা কোন প্রশাসন হবে। আমার ধারণা, সময়ই বলবে।' রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট এদিন সাংবাদিকদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্ন নেননি। এর আগে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহচর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছিলেন, ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা নেবে।

নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ক্যামেরার সামনে কথা বলা থেকে বিরত ছিলেন ট্রাম্প। চার বছর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি গণমাধ্যম থেকে এত দীর্ঘ সময় কখনও দূরে ছিলেন না। তবে শুক্রবারও টুইট বার্তায় নির্বাচনে জালিয়াতি নিয়ে তার দাবিকে সমর্থন জানানোয় সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এদিকে বাইডেনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক তথ্যও দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন। বাইডেন ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে রন ক্লেইনকে নিয়োগ দিয়েছেন। ট্রাম্প যে প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছেন না, তা নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন ক্লেইন। তিনি বলেছেন, এর ফলে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক রিপাবলিকানও ট্রাম্পের আচরণে ক্ষুব্ধ।

আদালতেও পরাজিত ট্রাম্প শিবির: ভোট জালিয়াতির মামলায় শুক্রবার তিনটি রাজ্যে আইনি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ট্রাম্প শিবির। তারা পেনসিলভানিয়া, আরিজোনা ও মিশিগানে মামলায় হেরে গেছে। মিশিগানের বিচারক রিপাবলিকানদের ভোট কারচুপির আরেকটি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ট্রাম্পের তোলা ভোট জালিয়াতির অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির নির্বাচন কর্মকর্তারাও। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে গঠিত একটি কমিটি বলেছে, 'এটা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম সুরক্ষিত নির্বাচন। ভোট হারিয়ে গেছে, বদল হয়েছে বা অন্য কোনোভাবে পরিবর্তন হয়েছে- এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।' সূত্র :এএফপি ও নিউইয়র্ক টাইমস।