টরন্টো ও পিল অঞ্চল সোমবার থেকে লকডাউন

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২০     আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০   

আহসান রাজীব বুলবুল, কানাডা প্রতিনিধি

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সোমবার থেকে টরন্টো এবং পিল অঞ্চলকে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। লকডাউনে জিমনেসিয়াম ও ব্যক্তিগত পরিষেবাসহ অপ্রয়োজনীয় ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি লকডাউনের আওতায় হটস্পট এলাকাগুলোতে হোটেল-রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া বন্ধ থাকবে।

কানাডায় করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় পর্যায়ে আক্রান্ত উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে ক্রমবর্ধমান হারে করোনাভাইরাস শনাক্ত বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কানাডার প্রধান চারটি প্রদেশ অন্টারিও, ব্রিটিশ কলম্বিয়া, আলবার্টা এবং কুইবেকে নাটকীয়ভাবে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ার কারণে হাসপাতাল, নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ব্যাপক হারে চাপ পড়ছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কানাডিয়ানদের সতর্ক করে বলেছেন, নিজেদের মধ্য যোগাযোগ হ্রাস না করলে বর্তমান অনুমানে কানাডার ভবিষ্যৎ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। শুক্রবার রিডাউ কটেজে নিজের বাড়ির বাইরে সংবাদ সম্মেলনের সময় ট্রুডো কানাডিয়ানদের বাড়িতে থাকতে এবং যোগাযোগগুলো কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানান।

এর আগে শুক্রবার কানাডার প্রধান জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা ডা. থেরসা ট্যাম সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা যে অবস্থায় আছি, যদি এর ওপরে করোনাভাইরাস আরও বাড়ে, তবে আমরা আসলেই সমস্যায় পড়ব।

বিভিন্ন প্রদেশের স্থানীয় নীতিনির্ধারকরা একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করছেন। এই বিধিনিষেধ শুধু অফিস-আদালতেই সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিকভাবে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে স্থানীয়দের একে অপরের বাড়িতে কম যাতায়াত এবং যথাসাধ্য মাস্ক ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছে। কানাডায় সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি, সরকারের বিভিন্ন বিধিনিষেধ দেওয়া সত্ত্বেও করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

একদিকে শীতের প্রকোপ, অন্যদিকে করোনাভাইরাসের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। তবুও প্রতীক্ষিত টিকা আর সুদিনের অপেক্ষায় কানাডাবাসী।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত সংখ্যা তিন লাখ ২৫ হাজার ৭১১ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ৪০৬ জনের। সুস্থ হয়েছেন দুই লাখ ৬০ হাজার ৩৯৮ জন।