ক্ষমতা থেকে বিদায়ের মাসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আদালত পর্যন্ত গিয়েও ফল নিজের পক্ষে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন নিজের দল রিপাবলিকান পার্টিকেই হুমকি দিচ্ছেন। ক্ষমতার শেষ দিনগুলোতেও সর্বশক্তি প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ছিনতাইয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। এখন চাপ দিয়ে কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের বাগে আনতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় একের পর এক এমন সব অপরাধীকে ক্ষমা করে দিচ্ছেন, যা দেশটির বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া করোনাকালীন প্রণোদনা বিলটি তিনি ঝুলিয়ে দিয়ে জনজীবনে নেমে আসা দুর্যোগ আরও দীর্ঘায়িত করার পাঁয়তারা করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। খবর এএফপি, সিএনএন ও বিবিসি।

গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ১৫ জনকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে দু'জন সাবেক আইনপ্রণেতা রয়েছেন। এই দু'জন ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একজন তার নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক সহকারী।

নিজের দীর্ঘ তালিকা থেকে অপরাধ ও দণ্ড থেকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, সবদিক খোলা রেখে ৬ জানুয়ারিকে টার্গেট করে ছক কষছেন ট্রাম্প। ৩ নভেম্বরের ভোটের ফল পাল্টে দিয়ে ক্ষমতায় আরও চার বছরের জন্য থেকে যাওয়ার কথা বিভিন্ন ফন্দিতে জারি রাখছেন। এরই মধ্যে তার একটি সমর্থকগোষ্ঠী ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পকে নিয়ে ভার্চুয়ালি বিকল্প অভিষেক অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। এ দিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের অভিষেক হবে।

মঙ্গলবার ফেসবুক ও টুইটারে এক পোস্টে নিজের রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের ওপর চড়াও হন ট্রাম্প। এতে তিনি বলেন, রিপাবলিকান পার্টিকে ভুলে গেলে চলবে না যে, তার সাহায্য ছাড়া সিনেটে দলের আটটি আসন কম হতো। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এখন পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার কৃতিত্বও দাবি করেন তিনি।

এদিকে ট্রাম্পের ক্ষমার তালিকা কতটা বড় হয়, তা নিয়ে উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গন। এমনকি নিজের জন্যও তিনি ক্ষমাপত্রে স্বাক্ষর করতে পারেন বলে একসময় বলেছেন। শেষ মুহূর্তে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের কাছে ক্ষমতা প্রদান করে ট্রাম্প নিজের জন্য সাধারণ ক্ষমা গ্রহণ করতে পরেন, এমন কথাও বলাবলি হচ্ছে।

২০ জানুয়ারির আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টি এখন ৬ জানুয়ারির দিকে। এদিন ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে গ্রহণ করা হবে। এটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে এই সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতায় কখনও বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে ট্রাম্পের কারণে এবারের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। কারণ, কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

অন্যদিকে দীর্ঘ বিতর্কের পর করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগকিরদের জন্য কংগ্রেসে যে ৯০ হাজার কোটি ডলার প্রণোদনা পাস হয়েছে, তাতে নাখোশ হয়েছেন ট্রাম্প। বিল সংশোধন করে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ২০০০ ডলার প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এতে করে ঝুলে যেতে পারে পুরো প্রক্রিয়া।