চীনের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অর্ধেকই স্থূলকায়। সংখ্যার হিসেবে ৫০ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজন সমস্যায় ভুগছেন। দেশটির সরকারি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০২ সালের পর থেকে দেশটিতে স্থূলকায় ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওই সময় দেশটিতে ২৯ শতাংশ মানুষ স্থূলকায় ছিলেন। খবর বিবিসির

প্রতিবেদনতে বলা হয়, কয়েক দশক ধরে চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রা, খাদ্যাভাস এবং ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিবর্তন এসেছে।

গত অক্টোবরে চীন সরকার ক্রমবর্ধমান স্থূলতা সমস্যা মোকাবিলায় কিছু পরিকল্পনার কথা জানায়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত স্থূলতা হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

করোনাভাইরাস মহামারি চলার সময় চীনে স্থূলকায় মানুষ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নতুনভাবে সামনে আসে। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্থূলকায় ব্যক্তিরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছে। তাদের মৃত্যুঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি।

বুধবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, দেশটির ৫০ শতাংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ স্থূলকায়। এর মধ্যে ১৬ দশমিক ৫ জন স্থূলতাজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শারীরিক পরিশ্রম না করার কারণে দেশটিতে স্থূলকায় মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এক চতুর্থাংশেরও কম সপ্তাহে একবার ব্যায়াম করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, মাংস খাওয়ার প্রবণতা এবং ফল খাওয়ার প্রতি অনাগ্রহও মানুষের ওজন বাড়াচ্ছে।

হার্বিন শহরের পুষ্টিবিদ ওয়াং ড্যান বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, দেশটিতে এখন অনেক প্রাপ্তবয়স্ক খুব কম ব্যায়াম করেন এবং অত্যাধিক চাপের মধ্যে থাকেন। পাশাপাশি তাদের কাজের সময়সূচিও স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনই একমাত্র দেশ নয়, যেখানে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূল মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই বছরের শুরুর দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ১৯৭৫ সালের পর বিশ্বে স্থূলকায় মানুষের সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে। এর মধ্যে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশও আছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০১৬ সালে চীনে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৪০ শতাংশ স্থূলকায় ছিলেন। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ স্থূলতাজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন।

এর মধ্যে উপসাগরীয় দেশ কাতারে স্থূলকায় মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানকার ৭০ শতাংশ মানুষ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার নানা সমস্যায় আক্রান্ত।