যাওয়ার আগে খুব ক্ষমতাচর্চা করে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।বুধবার ২৯ জনকে প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতাবলে ক্ষমা করার পর এবার সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানকেও দায়মুক্তি দিতে যাচ্ছেন তিনি।

সৌদির সাবেক একজন গোয়েন্দাকে কানাডায় হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তার জড়িত থাকার অভিযোগ থেকে তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। সৌদি  আরবের অনুরোধে সাড়া দিয়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট এ পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। খবর এনডিটিভির।

নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, অভিযোগ থেকে মুহাম্মদ বিন সালমানকে কীভাবে মুক্তি দেয়া যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন বিভাগ তা খতিয়ে দেখছে। এতে যে বিষয়গুলো পাওয়া যাবে, সেগুলো পাটানো হবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান মাইক পম্পেওর কাছে। মাইক পম্পেও তাতে সন্তুষ্ট হলে বিষয়টি বিচার বিভাগের কাছে পাঠাবেন। 

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথ নেয়ার আগে এই বিষয়টিতে নিশ্চয়তা পেতে চায় সৌদি আরব। তাড়াহুড়ো করার কারণ হলো ট্রাম্পের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাজ্যটির প্রতি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটু কঠোর মনোভাবই দেখাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। 

সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানকে (সংক্ষেপে এমবিএস নামেও যিনি পরিচিত) ওই হত্যা পরিকল্পনার আসামি করে চলতি বছরের আগস্ট মাসে ওয়াশিংটনের ফেডারেল কোর্টে মামলা হয়েছিল। মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাদ আল-জাবরি নামের সৌদি আরবের ওই সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে কানাডায় একটি হিট স্কোয়াড কানাডায় একটি হিট স্কোয়াড পাঠিয়েছিলেন তিনি। সাদ আল-জাবরি দেশ থেকে চলে গিয়ে গত তিন বছর ধরে কানাডায় অবস্থান করছিলেন।

অভিযোগের নথিতে বলা হয়, তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার পর পরই কানাডায় সাদ আল-জাবরিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

সৌদি যুবরাজের জন্য এই দায়মুক্তি পাওয়াটা খুবই জরুরি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে প্রশাসনে রদবদল ঘটার পর নতুন প্রশাসনের কাছে তেমন সুনজর যে তিনি পাবেন না, সেটা প্রায় নিশ্চিত। এই দায়মুক্তি পেয়ে গেলে সৌদি রাজপরিবারের কড়া সমালোচক ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাসোগির হত্যার অভিযোগ থেকেও রেহাই পাবেন তিনি।

এ ব্যাপারে ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাস কিংবা সরকার পরিচালিত সংস্থা সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল কম্যুনিকেশন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এই মামলায় সৌদি আরবের নিযুক্ত আইনজীবীরাও সাড়া দেননি। 

এর আগে অবশ্য ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের অনুরোধটি বিবেচনা করে দেখছে।