বিশ্বের অনেক দেশই প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে প্লাস্টিকের বিকল্প কোনও পদার্থের সহজলভ্যতা না থাকায় এর ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। 

সম্প্রতি হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইকোনোমিক্সের দুই তরুণ নারী গবেষক লিজ মাদারাস এবং ক্রিস্টিনা লেভাই এমন এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াল ককটেলের উদ্ভাবন করেছেন যা সহজে প্লাস্টিকজাতীয় জিনিস ধ্বংস করতে পারে। জেনেটিক রিকম্বিনেশনের মাধ্যমে কয়েক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংমিশ্রণে তৈরি করা হয় ব্যাকটেরিয়াল ককটেল। অতীতে চিকিৎসাক্ষেত্রে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে কিংবা ব্যাকটেরিয়াবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক তৈরিতে সফলভাবে ব্যাকটেরিয়াল ককটেল ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি নিউজ হাঙ্গেরিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিজ মাদারাস জানিয়েছেন, তাদের উদ্ভাবিত এ ব্যাকটেরিয়াল ককটেল প্লাস্টিকের আণুবীক্ষণিক গঠনকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলে। এরপর সেটি প্লাস্টিকের উপাদানকে আক্রমণের মাধ্যমে একে গ্রাস করে ফেলে। মূলত এ ধরনের ব্যাকটেরিয়াল ককটেল প্লাস্টিকের অভ্যন্তরে থাকা কার্বনকে একমাত্র কার্বনের উৎস হিসেবে ব্যবহার করে মেটাবলিজম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

লিজ মাদারাস বলেন, তাদের উদ্ভাবিত এ ব্যাকটেরিয়াল ককটেল ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে কোনও প্লাস্টিকজাতীয় পদার্থকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। কম্পোস্টিং পাইলগুলোতে যেভাবে জৈব বর্জ্যের সংশ্লেষ করা হয় ঠিক একইভাবে এ প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে প্লাস্টিক ধ্বংস করা হবে।

বুদাপেস্ট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইকোনোমিক্সে মাস্টার্সে অধ্যয়নকালীন সময় থেকে তারা প্লাস্টিক দূষণ রোধে কার্যকরি ব্যাকটেরিয়া উদ্ভাবনে একটি যৌথ প্রকল্প হাতে নেন।  তাদের এ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় পলিলুপ। 

লিজ মাদারাসের সহযোগী গবেষক ক্রিস্টিনা লেভাই জানিয়েছেন, পুরো গবেষণা প্রকল্প পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার আমরা নিজেরাই বহন করেছি। ছুটির দিনগুলোতে ল্যাবে এসে আমরা আমাদের গবেষণা কার্যক্রম চালাতাম এবং প্রায় দুই বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম শেষে এরকম একটি সাফল্য সত্যি আমাদের জন্য বড় অর্জন। 

বর্তমানে যদিও স্বল্প পরিসরে এ ধরনের ব্যাকটেরিয়াল ককটেল ব্যবহার করা হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর পর্যায়ে বিশেষত শিল্প-কারখানায় তাদের উদ্ভাবিত এ জৈবপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর বিষয়ে তারা আশাবাদী।