ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা

সিএনএনের প্রতিবেদন

বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা

গত ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। জবাবে পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ছবি: বিবিসি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৩ | ১৭:১১ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ০৫:০৬

রাশিয়া-ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও হামাসের সম্প্রতি শুরু হওয়া যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ব্যাপক অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। এসব সংঘাত যেসব এলাকায় সংঘটিত হচ্ছে, সেগুলোই শুধু হুমকিতে পড়ছে তা নয়। বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। 

গত শতকে বৈশ্বিক অর্থনীতি অনেকটা সমন্বিত হয়েছে। এ সময়কালে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন গড়ে উঠেছে; প্রযুক্তি এগিয়েছে অভাবনীয়ভাবে। মুক্তি বাণিজ্য, পুঁজি ও বৈশ্বিক তথ্য সরবরাহের গতি বেড়েছে। 

বৈশ্বিক আন্তঃসংযোগই বিশ্বায়ন নামে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিংশ শতাব্দীর শেষাংশে জার্মানির পুনর্মিলনের মধ্য দিয়ে এটা দ্রুততার সঙ্গে বাড়তে থাকে। তখন থেকে চীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও বেশি জড়িয়ে পড়তে শুরু করে। মার্কিন অর্থনৈতিক সেবাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়েলস ফার্গোর তথ্যমতে, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর অনেকে মনে করেন বিশ্বায়ন কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ছে। নিজেদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে অনেক দেশ আত্মরক্ষামূলক নীতি গ্রহণ শুরু করে। এসব নীতির মূল লক্ষ্য নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প বিদেশের প্রতিযোগিতার মুখে টিকিয়ে রাখা। বিভিন্ন দেশ থেকে নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে আলাদা করার এ প্রক্রিয়াই মূলত অবিশ্বায়ন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্বায়ন সাময়িক সময়ের জন্য স্তিমিত হয়ে আছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, স্তিমিত নয়, উল্টো পথে যাচ্ছে। এতে অনুঘটকের ভূমিকায় ছিল চীনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কযুদ্ধ, কভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন। 

ওয়েলস ফার্গোর অর্থনীতিবিদরা সম্প্রতি এক কঠিন বক্তব্য প্রকাশ করেন। তাদের মতে, বিশ্বায়নের যুগ শেষ হয়ে গেছে। ‘ক্ষতিকর’ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার ক্রম বিকাশের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ অনেকটাই কমেছে। তারা বলছেন, হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ ঘোষণা অবিশ্বায়নের ক্ষেত্রে আরও একটি অনুঘটক হয়ে উঠতে পারে, যদিও এর ব্যাপ্তি এখনও সীমাবদ্ধ।

এ প্রসঙ্গে ওয়েলস ফার্গোর অর্থনীতিবিদ ব্রেনডান ম্যাককেন্না বলেন, তারা মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক শুরু করেছিলেন। কিন্তু গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে এটি ইতিবাচক দিকে যাওয়া থেকে পিছিয়ে গেছে। যখনই বিভিন্ন দেশের মধ্যে ভূরাজনৈতিক ফাটল সৃষ্টি হয়, তখন তথ্যপ্রযুক্তির আদান-প্রদান কমে যায় এবং বাণিজ্যও কমে। দিনের শেষে অবিশ্বায়ন প্রকট হয়। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব বড় অর্থনীতির দেশগুলোর ওপর পড়বে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ যুদ্ধের প্রভাব কীভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে পড়বে– এমন প্রশ্নে ম্যাককেন্না বলেন, যখন আপনি যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে বলবেন, দেশটি ইসরায়েলকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। অন্যদিকে চীনের মতো দেশগুলো ইসরায়েলকে সমর্থন করে না বা নিজেদের সরিয়ে রাখে। এ ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরে কিছুটা অন্য সব দেশের দিকে যেতে পারে। অবিশ্বায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবিশ্বায়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক পরিবেশ থাকে কম প্রতিযোগিতামূলক। আর যখনই প্রতিযোগিতা কম থাকে, তখনই মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। 


আরও পড়ুন

×