ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

গাজায় নিরাপদ অঞ্চল ও ত্রাণ নিয়ে চুক্তির চেষ্টা

গাজায় নিরাপদ অঞ্চল ও  ত্রাণ নিয়ে চুক্তির চেষ্টা

দক্ষিণ গাজার রাফাহ শরণার্থী শিবিরে মঙ্গলবার ইসরায়েলের বিমান হামলায় আহত শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন এক স্বজন - এএফপি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ০৫:০৯

ইসরায়েলের নির্বিচার বিমান হামলায় বিপর্যস্ত গাজা উপত্যকা। খাবার, পানি ও ওষুধ সংকটে চলছে হাহাকার। শেষ হয়ে আসছে হাসপাতালগুলোর জ্বালানিও। মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ অঞ্চলটির ২৩ লাখ মানুষ। সীমান্তেও প্রস্তুত ইসরায়েলি সৈন্যরা, যে কোনো সময় শুরু হতে পারে স্থল অভিযান। এ অবস্থায় গাজায় নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কূটনীতিকরা। এরই মধ্যে এ নিয়ে পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। খবর নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স ও আলজাজিরার।

মঙ্গলবার সকালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েলের স্থল আক্রমণ শুরুর আগেই নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক সহায়তার পরিকল্পনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গাজায় মানবিক সহায়তা দিতে বিশ্বজুড়ে চাপ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে আজ বুধবার ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কয়েক দিন ধরে চলা গাজার সঙ্গে মিসরের সীমান্ত রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। বাইডেনের তেল আবিব সফরে দক্ষিণ গাজায় ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা ও ত্রাণ চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা। জাতিসংঘ বলেছে, উত্তর গাজা ছাড়তে ইসরায়েলের আলটিমেটামের পর ৬ লাখ ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ছেড়ে দক্ষিণ গাজায় আশ্রয় নিয়েছে। যদিও সেখানে এখনও কয়েক লাখ মানুষ রয়ে গেছে।

মানবিক সংকট বাড়ছে

একের পর এক বিমান হামলায় গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কিছুটা নিরাপদ ভেবে লোকজন দক্ষিণ গাজায় আশ্রয় নিলে সেখানেও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার রাতেও দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনিসে আবাসিক ভবনে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসক আহমেদ শাহীন বলেন, বোমাবর্ষণ চলছেই, থামছে না। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়া লোকজনকে বাঁচানো যাচ্ছে না। আমরা তাদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছি, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারছি না। হাসপাতালগুলো আহত, মৃতে ভর্তি। লাশ রাখার জায়গা নেই। সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো এখানে পান করার পানিও নেই, ধোঁয়ারও ব্যবস্থা নেই। গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি এবং ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছে, এমন প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৫০০ শিশুও রয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকায় অন্তত ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি। এ ছাড়া পশ্চিম তীরে ৬১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

ইসরায়েলের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত দুই হাজার মার্কিন সেনা

হামাসের সঙ্গে সংঘাতের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে পেয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীকে সমরাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছে ওয়াশিংটন। এ তৎপরতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবার সেনাসদস্য প্রস্তুত করেছে। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাবরিনা সিং মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তাদের মোতায়েনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

গাজায় জরুরি প্রবেশাধিকার চায় ডব্লিউএইচও

গাজায় ত্রাণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রবেশাধিকার চেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ডব্লিউএইচওর পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের জরুরি সেবা পরিচালক রিচার্ড ব্রেনান বলেন, আমরা রাফাহর দক্ষিণে ত্রাণ নিয়ে গেছি। গাজায় প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছি।

ইরানের হুঁশিয়ারি

অবিলম্বে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মঙ্গলবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যদি ইহুদিবাদী (ইসরায়েল) শাসকগোষ্ঠীর অপরাধ অব্যাহত থাকে, তাহলে প্রতিরোধ বাহিনী ধৈর্যহীন হয়ে পড়বে এবং কেউই তাদের থামাতে পারবে না।’ এর আগে প্রতিরোধ বাহিনী শিগগির পাল্টা ‘আগাম পদক্ষেপ’ নিতে পারে বলে সতর্ক করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমিরাবদুল্লাহিয়ান। তিনি বলেন, “প্রতিরোধ নেতারা ইহুদিবাদী শাসককে গাজায় কোনো পদক্ষেপ নিতে দেবে না। শিগগির আমরা তাদের কাছ থেকে ‘আগাম পদক্ষেপ’ আশা করতে পারি।”

হামাসকে সমর্থন দিলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিষিদ্ধ হবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে হামাসকে সমর্থন করা অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তাছাড়া, প্রকাশ্যে হামাসকে সমর্থন দেওয়া অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আগামী ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে চান ট্রাম্প।

রুশ পদক্ষেপ ব্যর্থ

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং ইসরায়েলের সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব তুলেছিল রাশিয়া। কিন্তু সদস্য দেশগুলো ভোটাভুটির মাধ্যমে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের মোট ১৫ সদস্যের মধ্যে রাশিয়ার প্রস্তাবে চীন, আরব আমিরাতসহ সমর্থন জানিয়েছে পাঁচটি দেশ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ চারটি দেশ এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। বাকি ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হতে অন্তত ৯টি ভোটের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া স্থায়ী পাঁচ দেশ যাতে সেটিতে ভেটো প্রদান না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়।

স্থল হামলার ইসরায়েলি হুমকিতে ভীত নই: হামাস

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস বলেছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় স্থল হামলার ইসরায়েলি হুমকিতে তারা ভীত নয়। হামাসের সামরিক শাখার মুখপাত্র আবু ওবাইদেহ বলেন, ‘আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে স্থল হামলা নিয়ে দখলদাররা (ইসরায়েল) যে হুমকি দিয়েছে, তাতে আমরা ভীত নই। আমরা এর জন্য প্রস্তুত।’

‘ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের কোনো ক্ষোভ নেই’

গাজায় চলমান অভিযান পুরোপুরি হামাসের বিরুদ্ধে, বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের কোনো ক্ষোভ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহুর পক্ষে তাঁর মুখপাত্র তাল হেইনরিশ এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইসরায়েলের লড়াই হামাসের বিরুদ্ধে, ফিলিস্তিন বা সেখানকার সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে নয়।’

শরণার্থীদের আশ্রয় দেবে না মিসর ও জর্ডান

জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ মঙ্গলবার ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মিসর বা জর্ডানে জোরপূর্বক পাঠানোর বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মানবিক এ পরিস্থিতি অবশ্যই গাজা ও পশ্চিম তীরের ভেতরে সামলাতে হবে। এটি একটি সীমারেখা। জর্ডানে বা মিসরে কোনো শরণার্থী নয়। বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এদিকে লেবাননে ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে সোমবার রাতভর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উত্তপ্ত রয়েছে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত।

আরও পড়ুন

×