মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের মারমুখী বিক্ষোভের মুখে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ওয়াশিংটনে আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটল ভবন। বিক্ষোভ ঠেকাতে ফাঁকা গুলি এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। অবরুদ্ধ করা হয় ভবন। এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন এক নারী। পরে তার মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার ওই ভবনে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্রাট প্রার্থী জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। এরই এক পর্যায়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এক নারী নিহতের তথ্য নিশ্চিত করলেও তার নাম পরিচয় জানায়নি পুলিশ।

সিএনএন ও বিবিসি জানায়, ক্যাপিটল ভবনের চারপাশে জড়ো হন কয়েক হাজার ট্রাম্প সমর্থক। তাদের মধ্যে ছিল মারমুখী ভাব। প্রথমে তারা ওই ভবনে ঢোকার চেষ্টা চালান। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি চালায় এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ক্যাপিটল ভবন থেকে ট্রাম্প-সমর্থকদের হটিয়ে দিতে পুলিশকে অন্তত তিন ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালাতে হয়।

ক্যাপিটল ভবনে সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রোপলিটান পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন ধরনের অন্তত ৫টি বন্দুক জব্দ করেছে। আহত কয়েকজন পুলিশ অফিসারকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনার পর যৌথ অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়। তবে রাতে আবার তা শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। ট্রাম্প একটি ভিডিও বার্তায় তার সমর্থকদের বাড়ি ফিরে যেতে অনুরোধ করেছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকার আইন-প্রণেতারা যখন নভেম্বরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত শত সমর্থক তখন ক্যাপিটল ভবনে ঢুকে পড়ে। কয়েক ঘণ্টা ভবন কার্যত দখল করে রাখার পর বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে ক্যাপিটল প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে চলে যেতে থাকে।

রাজধানী ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টার করফিউ ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু এরপরও শত শত বিক্ষোভকারীকে রাজপথে জটলা পাকাতে দেখা যায়। ভবনের ভেতরে বিক্ষোভকারীদের 'আমরা ট্রাম্পকে ভালোবাসি' শ্লোগান দিতে দিতে মিছিল করতে দেখা গেছে। একজন ট্রাম্প সমর্থকের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে তিনি সেনেটের সভাপতির আসনে বসে আছেন।

এ ঘটনায় বিস্মিত ও স্তব্ধ হওয়ার প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্বের রাজনৈতিক নেতারা। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক দৃশ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বলেন, ‘ট্রাম্প এবং তার সমর্থকদের উচিত শেষ পর্যন্ত আমেরিকার ভোটারদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া এবং গণতন্ত্রের পদদলন না করা।’

এক বিবৃতিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ বলেছেন, এটা পুরোপুরি অসুস্থ এবং হৃদয়বিদারক দৃশ্য। রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল কোন দেশে এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলকে বিতর্কিত করা হয়- আমাদের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে এর কোন স্থান নেই।

এক বিবৃতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ইতিহাস সঠিকভাবেই ক্যাপিটলের উপর এই আক্রমণকে মনে রাখবে, আর সেটি হচ্ছে ‘এই মুহূর্তটি প্রচণ্ড অসম্মান এবং এই জাতির জন্য লজ্জাজনক।’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, গণতন্ত্রের উপর এই আঘাতের ঘটনায় কানাডিয়ানরা প্রচণ্ড বিরক্ত। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্ন্দান্দেজ জো বাইডেনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন এবং সহিংসতার ঘটনার প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন।