বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা যখন ক্যাপিটল ভবনে তাণ্ডব চালিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড বাধিয়ে দিয়েছেন; তখনই তাদের সরে যেতে বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ বিক্ষোভের আগে হলে তার এই বার্তা হয়তো ভিন্ন ফল এনে দিতে পারতো।

বিক্ষুদ্ধদের প্রেসিডেন্ট সরে যেতে বলেছেন ঠিকই, তবে সহিংসতার এই প্রেক্ষাপটও যে তারই তৈরি সে প্রমাণও মিলেছে। স্পষ্ট হয়ে গেছে অনেক কিছুই। পরাজয়ের ক্ষোভে সমর্থকদের বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছেন ট্রাম্প নিজেই।

৩ নভেম্বরের নির্বাচন ঘিরে আগে থেকেই ‘গুজব’ ছড়াচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বারবার বলে এসেছেন, তাকে হারানোর জন্য চক্রান্ত হচ্ছে। নির্বাচনের সময়েও নানা গুজব আর ভুল তথ্য ছড়িয়ে সংবাদ মাধ্যম গরম রেখেছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তার জন্য পরাজয়ই নির্ধারিত হয়।

নির্বাচনে হেরে গিয়ে নির্বাচনের সময়ের চেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ট্রাম্প। সমর্থকদের নানা সময় উত্তেজিত করে তোলেন তিনি। তার সমর্থকরা সে সময় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে আদালত পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন।

এবার নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয় স্থানীয় সময় বুধবার। এদিন ওয়াশিংটনে দেশটির আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটলে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্রাট প্রার্থী জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। এরই এক পর্যায়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে চারজনের।

রয়টার্স জানয়িছে, বারবার পরাজয় অস্বীকার করা ট্রাম্প বুধবার তার সমর্থকদের র‌্যালি করতে ওয়াশিংটনে আসতে বলেছিলেন। কর্মী ও সমর্থকরা সে কথা মেনেই জড়ো হন সেখানে।

গত ২০ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক টুইট বার্তায় বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে পরিসংখ্যানগত দিক দিয়েই আমাদের পরাজিত হওয়া অসম্ভব। ৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভ হবে। সেখানে আসো, আমরা বন্য হয়ে উঠবো।

এই নির্দেশনা মেনেই ট্রাম্প সমর্থকরা ক্যাপিটল হিলে পৌঁছে যান। ট্রাম্প সমর্থকরা তার পক্ষে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ক্যাপিটল ভবনে নির্বাচিত সরকারকে অস্বীকার করেন। এই জমায়েতই এক সময় রূপ নেয় সহিংসতায়।

বিক্ষুব্ধ জনতাকে উদ্দেশ্য করে এদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘যুদ্ধের’ আহ্বানও জানান। তিনি বলেন, আমরা কখনই হাল ছাড়ব না। আমরা কখনই পরাজয় স্বীকার করব না।

সিএনএন ও বিবিসি জানায়, ট্রাম্পের বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে দলে ক্যাপিটল ভবনে যেতে থাকে মানুষ। ক্যাপিটল ভবনের চারপাশে জড়ো হন কয়েক হাজার ট্রাম্প সমর্থক। তাদের মধ্যে ছিল মারমুখী ভাব।

এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি চালায় এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ক্যাপিটল ভবন থেকে ট্রাম্প-সমর্থকদের হটিয়ে দিতে পুলিশকে অন্তত তিন ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালাতে হয়। পরে পুলিশ ভবনটি অবরুদ্ধ করে রাখে। 

বিক্ষুব্ধদের উত্তেজিত করে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এরই মধ্যে ট্রাম্পের পোস্ট সরিয়ে ফেলেছে ফেসবুক ও টুইটার কর্তৃপক্ষ। এ দুই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্লক করা হয়েছে তার অ্যাকাউন্টও। ট্রাম্প সমর্থকদের এমন তাণ্ডবে দেশের মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পক্ষ তো বটোই ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিশ্ব নেতারাও।