প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উস্কানিতে ক্যাপিটল ভবনে নজিরবিহীন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিরাও 'লজ্জা' পেয়েছেন। তারা বলেছেন, ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের এই আচরণ আমেরিকার কলঙ্ক। ক্ষমতালোভী ট্রাম্পের বিচার না হলে ভবিষ্যতে দেশটির গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে। অনেকে বলেছেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের অনেক বন্ধু ও স্বজনও এখন তাদের টিপ্পনী কাটতে ছাড়েন না। ট্রাম্পের একজন কট্টর সমর্থক লিটু আনাম বলেন, একজন রিপাবলিকান সমর্থক হয়েও আমি এ ঘটনার নিন্দা জানাই। এতে দীর্ঘদিন ধরে লালন করে আসা আমেরিকান গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আর ট্রাম্পের ক্রমাগত মিথ্যাচার এবং উস্কানিমূলক কথাই এ ঘটনার কারণ বলে আমি মনে করি।
সরকারি কর্মকর্তা ও লেখক মনজুর কাদের বলেন, ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের ধারাবাহিক আচরণে তাজ্জব ও হতবাক হয়ে গেছি। রিপাবলিকান দলের চিরস্থায়ী ক্ষতি হয়ে গেল। একজন নাগরিক হিসেবে আমার গ্লানিবোধ হচ্ছে। ট্রাম্প অভিশংসিত হওয়ার মতো ফৌজদারি অপরাধ করেছেন।
গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি বলেন, 'প্রগতিশীল'দের সিদ্ধান্তহীনতা এবং সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারার কারণে রক্ষণশীল ডানপন্থিরা বাধাহীন নীরব 'বিপ্লবের' মাধ্যমে সমগ্র পৃথিবীতেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য চরিত্রগতভাবে যে উগ্রপন্থা অবলম্বন করছে তার সবচেয়ে জঘন্য উদাহরণ আমরা দেখলাম 'ক্ষয়প্রাপ্ত' যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যের অধিকর্তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে উগ্র জাতীয়তাবাদীদের আইনসভায় হামলা করে ক্ষমতায় পুনঃঅধিষ্ঠানের বিফল চেষ্টার মাধ্যমে।
আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক বলেন, কাছ থেকে দেখা জঘন্য একজন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার ইতিহাসে একজন লোভী, নির্লজ্জ, মিথ্যাবাদী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি কোম্পানির দ্বিতীয় দিনের কনভেনশনে তাকে দেখতে পাই। খুব কাছ থেকে তার বক্তব্য শুনেছিলাম। কনভেনশনের কোম্পানিটি সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা ছিল না। শুধু জেনেছি কোম্পানিটির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই আয়োজন।
নিউইয়র্কের একটি সাপ্তাহিক কাগজের রিপোর্টের জন্য সেখানে আমাকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে গিয়ে দেখি কোম্পানিটি বাংলাদেশের ডেসটিনি ও যুবকের আদলে এলএলএম কোম্পানি! অনেকটা হতাশ হলাম।
কনভেনশনের শেষ দিন দর্শকদের সামনে অতিথি হিসেবে হাজির ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাকে করতালি দিয়ে সবাই স্বাগত জানালেন। অবশ্য ট্রাম্প তখন রাজনীতিতে আসেননি। তিনি হায় হায় কোম্পানিটির ভূয়সী প্রশংসা করলেন। কিছুটা ফানি কথা বললেন, তারপর চলে গেলেন। পরে ইউটিউব সার্চ করে দেখি ওই হায় হায় কোম্পানির পক্ষে তিনি বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন। অথচ তিনি তখন আমেরিকার স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। কোথাও যাওয়ার আগে তার চিন্তা করা উচিত ছিল। অর্থের বিনিময়ে তিনি যে কোনো কাজ ধরনের করতে পারেন! তা না হলে এরকম একটা বাটপারি কোম্পানির হয়ে কীভাবে কাজ করেন। এটাই তার বড় উদাহরণ তিনি যে একজন লোভী।
ওই কোম্পানির মাধ্যমে পরে হাজার হাজার লোক প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। হঠাৎ করে তার মতো মানুষ আমেরিকার মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। ভাবতেই অবাক লাগে। নির্বাচনে হেরে গেছেন। অথচ তিনি ক্ষমতা ছাড়তে চান না। যে কোনো কায়দায় ক্ষমতায় থাকার অপচেষ্টা করছেন। নিঃসন্দেহে বলা যায় ট্রাম্প একজন চরম লোভী মানুষ।
বাংলাদেশি মামুন রশিদ চৌধুরী বলেন, আমেরিকার ইতিহাসে এরকম জঘন্যতম অধ্যায়ের সৃষ্টি হবে, কোনোদিন কল্পনা করিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আসলাম আহমাদ খান বলেন, প্রেসিডেন্ট একটি দেশের অভিভাবক। তার কাজ হলো অনুরাগ বা বিরাগের ঊর্ধ্বে ওঠে শ্রেণি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিভাবকসুলভ আচরণের পরিবর্তে বিভেদ তৈরি করে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। মনগড়া অভিযোগের ভিত্তিতে জনরায়কে পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার আচরণ গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। গতকাল ক্যাপিটল হিলে যা হয়েছে তা ৯/১১-এর ঘটনার চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। তিনি বলেন, দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রের স্বার্থে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন। তা নাহলে ভবিষ্যতে আমেরিকার গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে।

বিষয় : বাংলাদেশি প্রবাসীরাও লজ্জিত

মন্তব্য করুন