জিরাফের কথা শুনলেই মনে পড়ে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু প্রাণীর কথা। অস্বাভাবিক উচ্চতার আশীর্বাদে এরা অনায়াসে গাছের মগডালের পাতাও সংগ্রহ করে খেতে পারে। ১৬ থেকে ১৮ ফুটের গড় উচ্চতার কারণে এই প্রাণী বিশেষভাবে পরিচিত হলেও সম্প্রতি এর ব্যতিক্রম পাওয়া গেছে। 

অন্যদিকে বামন কথাটি নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে মানুষের সঙ্গে। মানুষের উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে ছোট হলে এ শব্দটির প্রয়োগ হয়। কিন্তু গবেষকরা বলেছেন, বামনাকৃতি বা খর্বকায় হওয়ার জন্য গৃহে পালন একটি কারণ হতে পারে। এ জন্য গৃহপালিত পশু বা প্রাণীগুলো তাদের প্রজননগত কারণে বন্যপ্রাণীর তুলনায় খাটো হয়। এরও ব্যতিক্রম থাকতে পারে। তবে প্রথমবারের মতো বামন জিরাফ পাওয়া গেছে।

জিরাফের গড় উচ্চতার চেয়ে অর্ধেক তথা মাত্র আট/নয় ফুটের উদাহরণ বিজ্ঞানীদের রীতিমতো বিস্মিত করেছে। সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী নিয়ে গবেষণা করেন এমন বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এই আকৃতির দুটি জিরাফের সন্ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে উগান্ডায় নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চল নুবিয়ানে পাওয়া জিরাফটির উচ্চতা নয় ফুট চার ইঞ্চি এবং মধ্য আফ্রিকার অ্যাঙ্গোলায় পাওয়া জিরাফটির উচ্চতা সাড়ে আট ফুট। এরা বামনবাদের কারণে খর্বকায় আকৃতির হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। তবে এস্কেলিটাল ডিসপ্লেসিয়া নামে বিরল জিনগত সমস্যার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। কারণ এর প্রভাবেও অনেক প্রাণীর দেহ ও হাড় গঠনে জটিলতা সৃষ্টি হয়, যা আকৃতি ছোট হওয়ার জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখে।

জিরাফ কনজারভেশন ফাউন্ডেশন ও দ্য স্মিথসোনিয়ান কনজারভেশন বায়োলজি নামে দুটি সংগঠনের সঙ্গে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করার সময় ফিরাফের বিরল এ আকৃতি চোখে পড়ে। এদের মধ্যে উগান্ডায় পাওয়া জিরাফটির নাম রাখা হয়েছে জিমিল এবং অ্যাঙ্গোলায় পাওয়া জিরাফের নাম রাখা হয়েছে নিগেল। সূত্র: ডেইলি মেইল।