যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে বিক্ষোভকারীরা ঢোকার সময় জেমি স্টাইম নামে যুক্তরাষ্ট্রের একজন রাজনৈতিক কলামিস্ট সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জেমি স্টাইম বলেন, এ ঘটনার আগে আমি আমার বোনকে বলেছিলাম, আজ খুব খারাপ কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। আমি জানি না সেটা কী, কিন্তু খারাপ কিছু একটা ঘটবে। ক্যাপিটল ভবনের বাইরে আমি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু বেপরোয়া সমর্থকের মুখোমুখি হই, যারা সবাই পতাকা ওড়াচ্ছিল এবং তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছিল। ধীরে ধীরে কোনো একটি সমস্যা তৈরি হচ্ছে বুঝতে পারছিলাম। আমি প্রতিনিধি পরিষদের প্রেস গ্যালারিতে ঢুকে যাই। সেখানে আমাদের বসার ব্যবস্থা ছিল।

স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তার হাতে থাকা কাঠের ছোট হাতুড়িটি ব্যবহার করে প্রতিনিধিদের পাঁচ মিনিটের সংক্ষিপ্ত কিছু বক্তব্য রাখার সুযোগ করে দিচ্ছিলেন। অধিবেশন যখন দ্বিতীয় ঘণ্টায় গড়াল, হঠাৎই আমরা কাচ ভাঙার আওয়াজ শুনতে পেলাম। বাতাস ধোঁয়ায় ভরে যেতে শুরু করল। ক্যাপিটল ভবনের পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা এলো, এক ব্যক্তি ভবনে ঢুকে পড়েছে। সবাই এদিক-সেদিক তাকাল, তারপর আবার নিজেদের কাজে মনোযোগ দিল। কিন্তু এরপর একের পর এক ঘোষণা আসতে থাকল।

তারা ঘোষণায় বলল, প্রবেশকারীরা রোটুন্ডা বা গোলাকার যে হল ঘরটি রয়েছে, সেখানে পৌঁছে গেছে। এই হল ঘরটি বাইরে থেকে যে সাদা গম্বুজটি দেখা যায় সেটির নিচে অবস্থিত। গণতন্ত্রের পবিত্র ঘরটিতে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে গেল। এখানে অনেকেই বেশ অভিজ্ঞ সাংবাদিক ছিলেন, বাল্টিমোরে সহিংসতার খবর সংগ্রহ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার নিজেরও। কিন্তু সেগুলো থেকে এই ঘটনা অনেক আলাদা ছিল। মনে হচ্ছিল, পুলিশ জানেই না কী হতে যাচ্ছে। তারা সংঘবদ্ধ ছিল না। তারা চেম্বারের দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাদের বের হয়ে যেতে বলছিল। বোঝাই যাচ্ছিল এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আমি ভয় পাচ্ছিলাম। অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেছি, যারা আমাকে বলছিল, ভীত হয়ে পড়ায় তারা কিছুটা লজ্জিতও হয়েছিল। হঠাৎ একটি গুলির শব্দ শুনতে পেলাম। রেলিংয়ের নিচ দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বের হতে হয়েছে আমাদের। অন্যদের সঙ্গে হাউসের ক্যাফেটেরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিলাম আমি। আমি এখনও কাঁপছি। একজন সাংবাদিক হিসেবে অনেক কিছুই দেখতে হয়েছে আমাকে, কিন্তু এটা ছিল আলাদা। সূত্র: বিবিসি।