ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুতর বিভাজন ও বিভাজন নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতার ফল। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ পতনের মুখে পড়েছে।  

আমেরিকান সমাজের মধ্যে গভীর বিভেদকেও প্রতিফলিত করে।  এমন অভিমত উঠে এসেছে শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে। খবর আল জাজিরার।

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপল’স ডেইলির পরিচালনায় গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এই দাঙ্গা এমন একটি বিষয়, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার  ন্যান্সি  পেলোসি যাকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ হিসেবে অভিহিত করেছেন,  যা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ পতনের চিহ্ন। একে সহজে পাল্টানো সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে একটি জরিপেরও ব্যবস্থা করে গ্লোবাল টাইমস। জরিপের ফল বিশ্লেষণ করে বলা হয়, রাজনীতিবিদদের প্রজন্মের দূরত্ব এবং সম্পদের অপব্যবহারের কারণে দেশটির রাজনৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। ধারাবাহিকতাবিহীন রাজনীতিবিদদের কারণেই এই সহিংসতা ও সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয় সম্পাদকীয়তে।

হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থিদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষপাতে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ কমিউনিস্ট সরকার। তারই সূত্র ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতাদের এক হাত নেয়া হয়েছে সম্পাদকীয়তে। বলা হয়েছে, হংকংয়ে গোলযোগসৃষ্টিকারীদের কার্যকলাপে যারা ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য’ দেখেছিল, তারাই ক্যাপিটল হিলে অমন উন্মত্ত অবস্থার সুষ্টি করেছিল। মার্কিনিদের এই আচরণকে ‘দ্বৈত মনোভাব’ বলে সমালোচনা করা হয়।

হংকংয়ের বিক্ষোভকারীরা মূল ভূখণ্ড চীনের কাছে  প্রস্তাবিত প্রত্যর্পণ আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রকাশ করছে। এ নিয়ে এখনো টানাপোড়েন চলছে চীনের সঙ্গে। তারা আরো বেশি গণতন্ত্রের কথা বলছে। গণ-সমাবেশের মধ্যে দিয়ে সর্বজনীন ভোটাধিকারের দাবিতে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে আইনসভায় ভাঙচুর করেছে। 

ট্রাম্প সমর্থকদের ওই উন্মত্ততাকে গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয় অভিমতে হংকংয়ে বিক্ষোভকারীদের গণতন্ত্রের দাবিতে ‘উগ্র’ আচরণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।   

তবে হংকংয়ের মিডিয়াগুলো তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলের ঘটনার তুলনাকে নাকচ করে দিয়ে মন্তব্য করেছে,  হংকংয়ের বিক্ষোভকারীরা ব্যালট বাক্সে আরও স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছেন, আর ট্রাম্পের সমর্থকরা তাদের দেশের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষতি করতে সহিংসতা চালাচ্ছে।

এদিকে কমিউনিস্ট সরকারের মুখপত্র পিপল’স ডেইলি বলেছে, ট্রাম্পের সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।