কংগ্রেস ভবনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের সহিংস হামলার ঘটনার পর একের পর এক কর্মকর্তারা তার প্রশাসন ছাড়ছেন। তাদের মধ্যে তিনজন মন্ত্রীও রয়েছেন। শুক্রবার এ তথ্য জানা গেছে। খবর সিএনএন ও বিবিসির।

সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শিক্ষামন্ত্রী বেটসি ডেভোস, পরিবহনমন্ত্রী অ্যালেইন চাও ও স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী সচিব এলিনর ম্যাক-ক্যানসি-কাটজ পদত্যাগ করেছেন। বেটসি বলেন, তিনি শুক্রবার তার পদ ছাড়ছেন। কংগ্রেস ভবনে হামলাকে তিনি 'বিবেকবর্জিত' বলে বর্ণনা করেছেন।

অ্যালেইন চাও গতকাল টুইটারে তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনিই ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার প্রথম সদস্য যিনি কংগ্রেস ভবনে সহিংসতার কারণে প্রথম পদত্যাগের ঘোষণা দেন। চাও বলেন, ওই সহিংসতার ঘটনা তাকে গভীরভাবে আহত করেছে। ফলে তিনি বসে থাকতে পারেননি। তার পদত্যাগ সোমবার কার্যকর হবে।

তিনি পদত্যাগ করার আগে তার স্বামী সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেল ও সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী সচিব এলিনর ম্যাক-ক্যানসি-কাটজ তার চিঠিতে লিখেছেন, আমি আজ পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার ইচ্ছা ছিল এই প্রশাসনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করব। কিন্তু আমার সেই ইচ্ছা গত সন্ধ্যায় মরে গেছে, যখন দেখলাম ক্যাপিটল ভবনে সহিংস হামলা হলো। আমি বিশ্বাস করি, এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমাদের আত্মোপলব্ধি নিয়ে নিজেদের মধ্যে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমাদের সঠিক কাজটিই করতে হবে।

মিক মুলভানে ট্রাম্পের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফের দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের নর্দান আয়ারল্যান্ডবিষয়ক বিশেষ দূত হন। তিনি বুধবার রাতেই পদত্যাগ করেন। মুলভানে বলেন, ক্যাপিটল ভবনে হামলায় প্রেসিডেন্টের উৎসাহ দেওয়ার দৃশ্য দেখার পর তিনি আর তার দায়িত্বে থাকতে পারেন না।

ট্রাম্পের উপজাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাথু পটিংগার পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জ্যেষ্ঠ সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা জন কস্টেলো গত বুধবার পদত্যাগ করেন। তিনি তার সহকর্মীদের বলেছেন, এই হামলার ঘটনাটি ছিল সহ্যের শেষ সীমা।

হোয়াইট হাউসের কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যাডভাইজারসের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টেইলর গুডস্পিড গতকাল পদত্যাগ করেন। তিনি বলেছেন, বুধবারের হামলার ঘটনার পর তিনি আর তার পদে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতর নিজেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলছেন, নির্ভর করছেন তার একান্ত অনুগত কয়েকজনের ওপর আর সেসব সহযোগীদের ওপর ফুঁসছেন, যারা তার কথার অবাধ্য হওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। তার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া সহযোগীদের মধ্যে এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের নামও আছে বলে জানা গেছে।