যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে করোনার টিকা নেবে না বলে জানিয়েছে ইরান। শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনি টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানান। তার মতে, যে দেশগুলোতে করোনায় মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, সেসব দেশের তৈরি টিকায় আস্থা রাখার কোনো কারণ নেই। খবর আল জাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন দৈনিক ৪ হাজার মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছে। খামেনি তার ভাষণে এই তথ্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যি সত্যি টিকা বানাতে পারত, তাহলে তাদের নিজেদের এই হাল হতো না। ফাইজার নামে তাদের টিকা প্রস্তুতকারক কারখানাটি আছে এবং তারা যে টিকা আমাদের কাছে বিক্রি করতে চাইছে, তা যদি সত্যি সত্যি কাজ করত, তাহলে তারা নিজেরাই তা ব্যবহার করত। তাদের দেশে এত মানুষ প্রতিদিন মারা যেত না।’

খামেনি বলেন, ‘এই একই কথা যুক্তরাজ্যের বেলায়ও প্রযোজ্য। তারা নিজেদের ওপর ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা না করে আমাদের কেন দিতে চাইছে?’

খামেনি তার ভাষণে ফ্রান্সকেও বিশ্বাস করেন না বলে জানান। ১৯৯১ সালে দেশটিতে রক্ত নিয়ে যে স্ক্যান্ডাল হয়েছিল, তাতে তাদের সততার প্রতিও নিজের সন্দেহের কথা জানান সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। সেসময় ইরান ফ্রান্সের কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য রক্ত আমদানি করেছিল। সে আমদানি করা রক্ত ব্যবহারের কারণে ইরানে এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছিল অনেক রক্তগ্রহীতা। এই দূষিত রক্ত ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্তদেরও কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি ফরাসিরা।

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার এই আদেশের পর ইরানের রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ফাইজার ও বায়োএনটেকের কাছ থেকে যে দেড়লাখ ডোজ টিকা আনার পরিকল্পনা করে, তা স্থগিত হয়ে গেছে। তারা অবশ্য এর আগে চীন থেকে ১০ লাখ ডোজ টিকা কেনার কথা বলেছিল।

ইরান সরকার কোভাক্সের কাছ থেকে ১ কোটি ৬৮ লাখ ডোজ কেনার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে। শুক্রবার প্রদত্ত ভাষণে ইরানের ধর্মীয় নেতা স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের চেষ্টা করার প্রশংসা করেন।