যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। তার অভিষেক অনুষ্ঠানে থাকবেন না তার পূর্বসূরি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার কাছে বিদায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার তুলে দেওয়াই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। তবে এই সংস্কৃতি মানছেন না রীতিবিরোধী ট্রাম্প। 

ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় অভিষেক অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হবে। গত শুক্রবার সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিষেক অনুষ্ঠানের দিন সকালেই হেলিকপ্টারে করে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করবেন ট্রাম্প।  খবর এএফপি ও ফক্স নিউজের

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জো বাইডেন শপথ নেওয়ার আগেই রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ছাড়বেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি সকালেই ফ্লোরিডার মার-এ-লেগো রিসোর্টের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। ১৮৬৯ সালের পর এই প্রথম কোনো বিদায়ী প্রেসিডেন্ট তার উত্তরসূরি প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন না। এর আগে দেশটির ইতিহাসে আরও তিনজন প্রেসিডেন্ট উত্তরসূরির অভিষেকে অংশ নেননি। তারা হলেন- সাবেক প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস, জন কুইন্সি অ্যাডামস ও অ্যান্ড্রু জনসন। তবে, এ নিয়ে এখনও বিদায়ী প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের বাসভবন ছাড়ার পর ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-এ-লেগো রিসোর্টে যাবেন। যেটা তার বৈধ বাসভবন এবং সেখানে তিনি বসবাস করবেন। 

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে হোয়াইট হাউসের আইসেনহোয়ার এপিকিউটিভ অফিস ভবনের সামনে কর্মীদের কয়েকটি বাপ বহন করতে দেখা গেছে।

এর আগে গত সপ্তাহেই জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার কথা জানান ট্রাম্প। টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটে লিখেছিলেন, 'যারা জিজ্ঞাসা করেছেন তাদের সবাইকে জানাই, আমি ২০ জানুয়ারি অভিষেক অনুষ্ঠানে যাব না।'

এদিকে, গত বুধবার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে (প্রতিনিধি পরিষদ) ২৩২-১৯৭ ভোটে ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ১০ জন রিপাবলিকানও ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে ভোট দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট দুই বার অভিশংসিত হলেন।

ডেমোক্র্যাটরা চান দ্রুতই যেন সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে বিচার হোক। তবে, এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন সিনেটের রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল। তিনি জানান, ১৯ জানুয়ারির আগে বিচার শুরু করা যাবে না। এর অর্থ হলো ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস ছাড়ার পরই বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।