টুইটার, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার মিত্রদের নিষিদ্ধ করার পর দেশটির নির্বাচন নিয়ে জালিয়াতি সম্পর্কে অনলাইনে ভুয়া তথ্যের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিগন্যাল ল্যাবসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। জিগন্যাল ল্যাবস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার পর নির্বাচনে জালিয়াতি নিয়ে ভুল তথ্য ৭৩ শতাংশ কমেছে।

গত ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে সহিংস হামলার পর টুইটার, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের নিষিদ্ধ করে।

ভোট জালিয়াতির ভুয়া অভিযোগ তুলে ট্রাম্প নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সমর্থকদের উসকানি দেওয়াসহ নানা তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন।

ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর প্রথমে টুইটারে ট্রাম্পকে সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর ৮ জানুয়ারি তারা ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়। ফেসবুক প্রথমে ট্রাম্পকে ২৪ ঘণ্টার জন্য নিষিদ্ধ করে। পরে তারা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাকে নিষিদ্ধ করে। স্ন্যাপচ্যাট ট্রাম্পকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। ইউটিউবও ট্রাম্পের চ্যানেল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা ইনস্টাগ্রাম, টুইস, স্পটিফাইসহ বিভিন্ন মাধ্যমেও তাদের অ্যাকাউন্ট হারিয়েছে।

জিগন্যাল ল্যাবস গত এক সপ্তাহ ধরে (শনিবার থেকে শুক্রবার) গবেষণা করে দেখেছে, টুইটারে ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করার পরের সপ্তাহে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনে জালিয়াতি নিয়ে আলোচনা ২৫ লাখ থেকে কমে ৬ লাখ ৮৮ হাজারে নেমে এসেছে।

এই গবেষণা দেখিয়েছে কীভাবে অনলাইনে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সেইসঙ্গে গবষণাটি দেখিয়েছে, ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

এ বিষয়ে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির গবেষক কেট স্টারবার্ড বলেছেন, একসঙ্গে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিলে অদূর ভবিষ্যতে অনলাইনে ভুল তথ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।