যাব না, যাব না, করেও যেতেই হলো। ক্ষমতা ছাড়তে হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। শেষ হলো ট্রাম্প অধ্যায়। শেষ হলো ‘পাগলাটে’ এক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময়কাল। অথচ কত বাহানাই না করেছেন; ছাড়তে চাননি পদ। যেতে যেতে, এই ট্রাম্প কী ব্যথা মনে বয়ে নিয়ে গেলেন; হয়তো কেউ তা জানে না। 

বুধবার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করছেন ডেমোক্রাট প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়া জো বাইডেন। এদিন দুপুর পর্যন্ত ক্ষমতা আছে ট্রাম্পের হাতে। এরপরই বিদায়ের ঘণ্টা। তবে তার আগেই স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে হোয়াইট হাউস ছেড়েছেন তিনি।

সিএনএন বলছ, গত এক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পের ব্যস্ততা ছিল চরমে। মঙ্গলবার শেষ পূর্ণ কর্মদিবস কাটে তার।নিতে হয়েছে নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সাধারণ ক্ষমার নথিতে সই; নানা বৈঠক। এসবেই কেটেছে দিন।

রাতে হোয়াইট হাউসের বিদায়ী ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, আমরা যা করতে এসেছিলাম, তার সবই করেছি এবং তার চেয়ে বেশি কিছুও করেছি। ট্রাম্প তার বিদায়ী ভাষণে, নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার কথা বলেছেন। তার দলের নাম হতে পারে 'প্যাট্রিয়ট পার্টি'। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা কিছুই না। এটা মাত্র শুরু।

কর্মী সমর্থকদের শক্ত থাকতে বললেও ভেতরে ভেতরে এক বিষাদ ছুয়ে গেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। কী ব্যথা যেন বয়ে নিয়ে গেলেন তিনি। হোয়াইট কেটেছে চারটি বছর; অপেক্ষা ছিল আরও চার বছর কাটানোর। হলো না সেই স্বপ্ন পূরণ। মার্কিনীদের রায়ে বন্ধ হয়েছে ট্রাম্পের সে পথ। 

বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার ভোরে হোয়াইট হাউস ছেড়েছেন ট্রাম্প আর মেলানিয়া। একটি বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন তারা। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ট্রাম্প স্ত্রীকে নিয়ে চলে যাবেন পাম বিচে তার মার-এ-লাগো রিসোর্টে। এখানেই আপাতত থাকবেন তারা।

গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচন ঘিরে আগে থেকেই ‘গুজব’ ছড়াচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বারবার বলে এসেছেন, তাকে হারানোর জন্য চক্রান্ত হচ্ছে। নির্বাচনের সময়েও নানা গুজব আর ভুল তথ্য ছড়িয়ে সংবাদ মাধ্যম গরম রেখেছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তার জন্য পরাজয়ই নির্ধারিত হয়।

নির্বাচনে হেরে গিয়ে নির্বাচনের সময়ের চেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প। সমর্থকদের নানা সময় উত্তেজিত করে তোলেন তিনি। তার সমর্থকরা সে সময় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে আদালত পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন। ৬ জানুয়ারি নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়।

ওইদিন ওয়াশিংটনে দেশটির আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটলে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্রাট প্রার্থী জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। এরই এক পর্যায়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সহিংসতায় মৃত্যু হয় পাঁচজনের।

এরপরও সহিসংতার পথ খুঁজতে থাকেন ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা। অস্ত্র নিয়ে রাজ্যপরিষদগুলোতে হাজির হতে দেখা গেছে তাদের। তবে কড়াকড়ি আরোপ হয়েছে দেশজুড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতা ছাড়তে হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। অংশ নিচ্ছেন না উত্তরসূরির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের অনুষ্ঠানেও।