যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার শুরু করতে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় চাচ্ছে রিপাবলিকানরা। অভিশংসন মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে ট্রাম্পের জন্য এ সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তারা। সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার এ অনুরোধ বিবেচনা করে দেখছেন। খবর বিবিসির।

ডেমোক্র্যাটদের কেউ কেউ অভিশংসন বিচার বিলম্বিত করার বিষয়টি সমর্থন করছেন। কারণ, এতে জো বাইডেনের মন্ত্রিসভার মনোনীত প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে বেশি সময় পাবে সিনেট। তবে অন্য ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে অভিশংসন বিচার দ্রুত হওয়া জরুরি। তাদের আশঙ্কা, বিচার বিলম্বিত হলে অনেক রিপাবলিকান তার বিপক্ষে ভোট নাও দিতে পারে।

গত ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলার আগে বিদ্রোহ উস্কে দেওয়ার অভিযোগে প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পকে অভিশংসিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে সিনেটে ট্রাম্পের বিচারের পথ সুগম হয়েছে। এই বিচার শেষে ভবিষ্যতে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানোও নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার সিনেটের সংখ্যালঘু রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, তিনি অভিশংসন প্রস্তাব (ইমপিচমেন্ট আর্টিকেল) ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিনেটে না পাঠানোর জন্য প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

ওই অভিশংসন প্রস্তাব সিনেটে গেলেই শুরু হবে বিচারের প্রথম পর্ব। প্রস্তাবটি পাঠাতে দেরি করা হলে এ সময়ে ট্রাম্প বিচারের আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পেয়ে যাবেন। এর পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ এখন আছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। আর তাই রিপাবলিকানদের সময় চাওয়ার অনুরোধে নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমারের সম্মতি দরকার পড়বে।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি অভিশংসন প্রস্তাবটি কবে সিনেটে পাঠাবেন, তা নিশ্চিত নয়। আগামী সপ্তাহে প্রস্তাবটি সিনেটে পাঠানো হতে পারে। এর পরদিন থেকেই এ নিয়ে কার্যক্রম শুরু হতে পারে। পেলোসি বলেছেন, সিনেট বিচারের জন্য প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে।

ট্রাম্প তার অভিশংসন মোকাবিলার জন্য সাউথ ক্যারোলাইনার আইনজীবী বাচ বায়ারকে নিয়োগ দিয়েছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, ট্রাম্পের অভিশংসন মোকাবিলার জন্য একটাই যুক্তি তুলে ধরা হবে। আর তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়া কোনো প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করার নিয়ম নেই।

তবে পেলোসি রিপাবলিকানদের এ যুক্তি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, একজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে যা ইচ্ছে তা করবেন, এমন উদাহরণ মেনে নেওয়া যায় না। ডেমোক্র্যাটরা মনে করছেন, সিনেটে ট্রাম্পের বিচারের জন্য তারা প্রয়োজনীয় ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন পেয়ে যাবেন।