মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। গত সোমবার দেশটির সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নেত্রী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে। মঙ্গলবার রাতে ইয়াঙ্গুনের বাসিন্দারা প্রথম বিক্ষোভ করেন।

ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীরা গাড়ির হর্ন ও থালাবাসন বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান। দেশটির সরকারি হাসপাতালগুলোয় কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা সু চির মুক্তি দাবিতে মঙ্গলবার রাত থেকে সেবা দেওয়া বন্ধ করে দেন। খবর দ্য ইরাবতীর

এরপর থেকে একে একে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন যুবদল, সরকারি ও বেসরকারি খাতের বহু কর্মী। শুক্রবার সর্বশেষ আন্দোলনে সামিল হয়েছেন শিক্ষকরাও। 

লাল রিবন পরে, প্রতিবাদের প্রতীক হাতে নিয়ে শুক্রবার সকালে দেশটির ৯১টি সরকারি হাসপাতাল, ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এবং ১২টি সরকারি বিভাগের হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষার্থী, অধ্যাপক ও শিক্ষক প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

প্রতিবাদে ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের ডা. নান এনওয়েসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র স্টাফসহ তিন শতাধিক শিক্ষক এই প্রতিবাদে যোগ দেন। 

ডা. নান এনওয়ে বলেছেন, ন্যায়বিচার বুঝতে শিক্ষার্থীদের আমরা শিক্ষা দিই। আমরা এই অন্যায়কে মেনে নিতে পারি না। আমাদের অবস্থান রাজনৈতিক নয়। আমরা কেবল ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াচ্ছি।

বড় শহরগুলির অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা সামরিক সরকারের অধীনে ক্লাসে অংশ নেবেন না।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন উত্তর শান স্টেটের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট লাশিও জেনারেল হাসপাতালের সার্জন ডা. লিন লেইয়ার। তিনি বলেছেন, এত লোক এই আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে দেখে আমি আনন্দিত। আমরা চাই আরও বেশি লোক আমাদের সঙ্গে যোগ দিক। আমি সবাইকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

শুক্রবার দেশটির রাজধানী নেপিদোতে পরিবহন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি; শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা, সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের কয়েকশ’ বেসামরিক কর্মচারীও আন্দোলনে অংশ নেন।

গত বছরের ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নিরঙ্কুশ জয় পায়। কিন্তু সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। 

সোমবার ভোরে এনএলডি নেত্রী অং সান সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট ও দলটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের আটক করা হয়। এরপর সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয় দেশটির সেনাবাহিনী। সেইসঙ্গে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে আন্দোলন দমনে তৎপর হয়েছে সেনাবাহিনী। সু চির ডান হাত হিসেবে পরিচিত এনএলডি নেতা উইন টাইনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী কঠোর দমন অভিযানের বার্তা দিয়েছে।

অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামা অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। মিয়ানমারের মান্দালয় নগরীতে রাত হাড়ি-পাতিল বাজিয়ে যারা বিক্ষোভ করেছেন তাদের অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ফেসবুক টুইটার, ইন্সটাগ্রামও।