ভারতের উত্তরখণ্ডে হিমালয়ের হিমবাহ ধসে একটি বাঁধের ওপর পড়েছে। এতে সৃষ্ট বন্যায় দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার সকালে চামোলি জেলার অলকানন্দ ও ধৌলিগঙ্গা নদীর উপর হিমবাহ ভেঙে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘনায় এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন দেড় শতাধিক মানুষ। তাদের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধৌলিগঙ্গা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। নদী তীরবর্তী গ্রামগুলিও প্লাবিত হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, ঋষিগঙ্গা নদীর উপর তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্মাণাধীন ওই প্রকল্পে কাজ করছিলেন বেশ কিছু শ্রমিক। তারাও এই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়ছেন।

ধৌলিগঙ্গা হিমবাহ ধ্বসের কারণে তপোবনও ক্ষতির মুখে পড়েছে। সেখানের বাঁধও এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞে কতটা ক্ষতি হয়েছে তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

উত্তরখণ্ডের চার জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। উদ্ধার কাজের জন্য শ'খানেক আইটিবিপি জওয়ানকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা ভিডিওগুলোতে প্রবল বন্যার পানি দেখা যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর ছবিও এসেছে বিভিন্নজনের পোস্টে।

স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় সিং রানা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ঘটনা এত দ্রুত ঘটেছে যে কাউকে সতর্ক করার সময়ও ছিল না।

উত্তরখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রবল বৃষ্টি ও প্লাবনের জেরে চামোলির রেনি গ্রামে ঋষিগঙ্গা প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অলকানন্দায় নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি টুইটে বলেন, উত্তরখণ্ডের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আইটিবিপি ও এনডিআরএফের ডিজিদের সঙ্গেও কথা বলেছি। সংশ্লিষ্ট সকল আধিকারিকরা যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে উদ্ধার কাজ করছেন। এনডিআরএফ দলগুলি উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। উত্তরাখণ্ডের এই দেবভূমিকে সব রকম সহায়তা প্রদান করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, উত্তরখণ্ডের এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির উপর আমি নজর রাখছি। ভারত উত্তরাখণ্ডের সঙ্গে রয়েছে। সবার সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করছি আমরা। উচ্চপদস্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অবিচ্ছিন্নভাবে কথা বলা হচ্ছে। এনডিআরএফ মোতায়েন, উদ্ধার কাজ এবং ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়ে সমস্ত খবর নিচ্ছি।