সীমান্তে ১৬ মাস ধরে চীন নেপালি ব্যবসায়ীদের পণ্য আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চীন কোনো ঘোষণা ছাড়াই নেপালি ব্যবসায়ীদের ওপর একরকম ‘বাণিজ্য অবরোধ’ চাপিয়ে দিয়েছে। 

কাঠমান্ডু পোস্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই।

নেপাল ন্যাশনাল ট্রেডারস ফেডারেশনের সভাপতি নরেশ কাটুওয়াল বলেন, আমাদের পণ্য এখনও চীন সীমান্তে আটকা আছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে চীনের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছি। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও এ বিষয়ে অনুরোধ করেছি। এমনকি আমরা কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি।

তিনি বলেন, আমরা চীনের এই আচরণকে একটি অনানুষ্ঠানিক অবরোধ হিসেবে নিয়েছি। 

এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করার কোনও মানে হয় না, যোগ করেন তিনি।

গত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে উৎসবের মৌসুমে পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিক্স এবং শিল্প কাঁচামাল বোঝাই প্রায় ২ হাজার কনটেইনার চীন সীমান্তে আটকে দেওয়া হয়েছিল। সেসময় চীন কেবল কয়েকটি ট্রাককে নেপালে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল।

কাটুওয়াল জানান, গত ১৬ মাস ধরে কেরুং ও তাতোপানী সীমান্তে প্রায় ৩০০টি কনটেইনার আটকা পড়ে আছে। এর ওপর আবার চীনা সীমান্ত পয়েন্ট থেকে নেপালি সীমান্ত পয়েন্টে পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা যখন তাদের পণ্য পাওয়ার জন্য উদ্বিগ্নভাবে অপেক্ষা করছে, ঠিক তখনই চীনা পরিবহনকারীরা মালামাল পরিবহনের দাম বাড়িয়েছে, যোগ করেন তিনি।

‘অঘোষিত বাণিজ্য অবরোধ’ বিবেচনা করে নেপালি ব্যবসায়ীরা চীন থেকে নতুন পণ্য অর্ডার বন্ধ করে দিয়েছেন। বাণিজ্য ও রপ্তানি প্রচার কেন্দ্রের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে চীন থেকে আমদানি ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। নেপাল প্রথম ছয় মাসে ৯৬ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন রুপি মূল্যের চীনা পণ্য কিনেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১৮ দশমিক ২৫ বিলিয়ন রুপি কম।

নেপালি চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ফেডারেশনে রপ্তানি প্রচার কমিটির সভাপতি মনীষ লাল প্রধান বলেছেন, চীনের বাণিজ্য সীমান্তগুলো প্রায় বন্ধ ছিল। তারা হস্তশিল্পের পণ্য রপ্তানি করতে পারেনি।

সরাসরি চীন থেকে যে পণ্যগুলি আসত এখন সেগুলি ভারতের কলকাতা রুট হয়ে আনা হচ্ছে।