মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খুললে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ দিতে হবে সব রিক্রুটিং এজেন্সিকে। আগেরবারের মতো হাতেগোনা কয়েকটি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিয়ে সিন্ডিকেট করা যাবে না। 

রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানিয়েছেন এজেন্সি মালিকরা। 'বায়রা সিন্ডিকেট নির্মূল ঐক্যজোট'-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন থেকে 'সিন্ডিকেট' ঠেকাতে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জোটের পক্ষ থেকে সোমবার দাবিনামা সংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীকে। 

এর আগে সকাল ১১টায় ইস্কাটনের প্রবাসীকল্যাণ ভবনের সামনে মানববন্ধন করবেন এজেন্সি মালিকরা। দুই দেশের এজেন্সিগুলোকে যুক্ত করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জি-টু-জি প্লাস) কর্মী পাঠাতে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। তবে দেশের এক হাজার ৩০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে মাত্র ১০টি কর্মী পাঠানোর কাজ পায়। তারা তখন সিন্ডিকেট নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

জি-টু-জি প্লাসে ২০১৭ ও ১৮ সালে পৌনে তিন লাখ কর্মী মালয়েশিয়া যান। চুক্তি অনুযায়ী ৩৭ হাজার টাকা ব্যয়ের শর্ত থাকলেও প্রত্যেক কর্মীর তিন থেকে চার লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার ক্ষমতায় ফিরে মাহাথির মোহাম্মদের সরকার দুর্নীতির অভিযোগে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। তদন্তে জানা যায়, জি-টু-জি প্লাসে পাঁচ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।

১৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে জি-টু-জি প্লাসের মেয়াদ। নতুন চুক্তির আলোচনা করতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) সভা হবে। মালয়েশিয়া থেকে আসা সভার আলোচ্যসূচির প্রথমেই রয়েছে 'এজেন্সির সংখ্যা নির্ধারণ'। এ কারণে সাধারণ এজেন্সিগুলো অভিযোগ তুলেছে, এবারও সিন্ডিকেট হতে যাচ্ছে।

এবার ২৫টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দিতে নতুন করে সিন্ডিকেট গঠনের নীলনকশা করা হচ্ছে বলে রোববারের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন ঐক্যজোটের আহ্বায়ক আলী হায়দার চৌধুরী। 

তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে ৯৮ ভাগ রিক্রুটিং এজেন্সি বঞ্চিত হবে। আবারও আগের মতো কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হবে। দুর্নীতির কারণে আবারও শ্রমবাজার বন্ধ হবে।

জি-টু-জি প্লাসে কর্মী নেওয়ার পদ্ধতি 'ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে (এফডব্লিউসিএমএস)' বিতর্কিত বলে আখ্যা দিয়ে আলী হায়দার বলেন, তারা জানতে পেরেছেন, এবারও একই পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ হবে। মন্ত্রী পর্যায়ের জেডব্লিউজি সভার আলোচ্যসূচিতেও এফডব্লিউসিএমএস রয়েছে। অথচ দুর্নীতির কারণে এ পদ্ধতি বিতর্কিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত। গতবার পদ্ধতির নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট এবং এসপিপিকে মাহাথির সরকার কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। ওই সিন্ডিকেট হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। শূন্য ব্যয়ে অভিবাসনের কথা বলে প্রত্যেক কর্মী থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছে। তাই এ পদ্ধতিকে আর বিশ্বাস করা যায় না।

আলী হায়দার বলেছেন, সরকার স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ের কথা বললেও প্রত্যেক কর্মীর কত টাকা লাগবে, তা বলছে না। কর্মীর কাছ থেকে অভিবাসন ব্যয় কীভাবে নেওয়া হবে, কী মডিউলে নেওয়া হবে, তাও বলা হচ্ছে না। জেডব্লিউজি সভার আলোচ্যসূচিতে এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নেই। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এত দিন পাওয়ার পরও স্বল্প অভিবাসন ব্যয় নিশ্চিতে কেনো কার্যকর পদ্ধতির প্রস্তাব করেনি। মালয়েশিয়া ১৩টি দেশ থেকে কর্মী নেয়। অন্য দেশগুলো থেকে কোনো নির্দিষ্ট এজেন্সি কর্মী পাঠায় না। বাংলাদেশের জন্য কেন পৃথক নিয়ম থাকবে?

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার সাবেক সভাপতি আবুল বাশার, ঐক্যজোটের সমন্বয়ক শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব টিপু সুলতান, বায়রার সাবেক সহসভাপতি আবুল বারাকাত প্রমুখ।

মন্তব্য করুন