অং সান সু চির মুক্তি ও নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে মিয়ানমারে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

চলমান আন্দোলনের মধ্যেই মঙ্গলবার তারা এই পদক্ষেপ নেয়। ইয়াঙ্গুন থেকে মাওলামাইনের মধ্যে এখন ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা।

রয়টার্স জানিয়েছে, সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত ছবিতে প্লাকার্ড হাতে দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভকারীদের। ‘এখনই আমাদের নেত্রীকে ছেড়ে দাও’ ও ‘জনগণের হাতে ক্ষমতা দাও’ স্লোগান দিচ্ছে তারা।

ইয়াঙ্গুনে বড় ধরনের বিক্ষোভ দেখা গেছে মঙ্গলবার। সেন্ট্রাল ব্যাংকের সামনেও জড়ো হয়েছেন অনেকে। বিক্ষোভ চলছে অন্যান্য অনেক স্থানেও।

এদিকে মিয়ানমারের জান্তা সরকার পুনরায় দেশটিতে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানেই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মিন তুন এ আশ্বাস দেন।


মিয়ানমারে গত ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২টি আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পেয়েছিল ৩৪৬টি আসন।

এনএলডি নিরঙ্কশ জয় পেলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। তারা নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। যদিও ইউএসডিপি ৭১টি আসনে জয় পেয়েছে।

গত পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ওইদিন ভোরে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি ও দেশটির প্রেসিডেন্টসহ এনএলডির শীর্ষ বেশ কিছু নেতাকে গ্রেপ্তারের পর এক বছরের জন্য মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ও গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামে সাধারণ মানুষ। কিছু এলাকায় বলপ্রয়োগ করেছে কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ বিক্ষোভ ঠেকাতে রাস্তায় সেনাবাহিনী নামিয়েছে সামরিক জান্তা। সোমবার মিয়ানমারের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান টহল দিতে দেখা গেছে।

ইয়াঙ্গুনে স্যুলে প্যাগোডার সামনে সেনাবাহিনীর চারটি জলবাহী কামান দেখা যায়। এই জায়গাটি বিক্ষোভকারীদের কেন্দ্রস্থল। এছাড়া রোববার রাত থেকে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।