ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে বিজেপির জনসভায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিয়েছেন। ১০ বছরে মমতার সরকার এ রাজ্যের উন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলার মানুষ বদল চাইছে। এ ব্যাপারে তারা মনস্থির করে ফেলেছে।

সোমবার হুগলি জেলার সাহাগঞ্জের ডানলফ ময়দানে বিজেপির জনসভায় বক্তৃতা করেন মোদি। তার এ জনসভা ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তার সঙ্গে জনসভায় যোগ দেন কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির অনেক নেতা। তবে নরেন্দ্র মোদির এই সফরকে গুরুত্ব দিচ্ছে না মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির অন্যতম নেতা ও সাংসদ সৌগত রায় বলেছেন, মোদিরা এমন কথা বলে থাকেন। তারা কেমন পরিবর্তন এনেছেন, সেটি মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের দিকে তাকালে বোঝা যায়। বাংলার মানুষ ওই ধরনের পরিবর্তন চায় না।

আগামী এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হতে পারে। একই সঙ্গে আসাম, কেরালা ও পডুচেরির বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। এখনও তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। তবে গতকাল বক্তৃতা দেওয়ার সময় মোদি ইঙ্গিত দেন আগামী ৭ মার্চ তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তার আগেই পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী মাঠে বিজেপির জোয়ার তুলতে চান তিনি।

হুগলির জনসভায় মোদি বলেন, ফুল বদলে দিলেই পশ্চিমবঙ্গে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে। কোন ফুলের বদল চান মোদি- সেটি তিনি উল্লেখ করেননি। তবে আনন্দবাজার বলছে, তৃণমূলের প্রতীক জোড়া ঘাসফুল। বিজেপির প্রতীক পদ্মফুল। পশ্চিমবঙ্গে জোড়া ফুলের বদলে পদ্মফুলেই ভোট চাইলেন মোদি।

মোদির আগে জনসভায় বক্তব্য দেন বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযুষ গয়াল, বাবুল সুপ্রিয় থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাদের বক্তব্যে গুরুত্ব পায় পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের অভাব এবং এ ক্ষেত্রে মমতার ব্যর্থতা। একই সুরে মমতাকে আক্রমণ করেন মোদি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে অন্য রাজ্য থেকে এগিয়ে ছিল পশ্চিমবঙ্গ। তবে যারা এত দিন শাসন করেছেন, তারাই এ রাজ্যের এমন হাল বানিয়েছেন, উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের গ্রামে গ্রামে প্রকল্পের টাকা পৌঁছায় না। চাঁদাবাজি হয়। এতে করে তৃণমূল নেতাদের অর্থ বেড়েছে, গরিব হয়েছে সাধারণ মানুষ।

মোদি বলেন, হুগলি নদীর দু'পাশে পাট, ইস্পাতের কারখানা ছিল। আজ কী হাল তা আপনারা দেখছেন। বাংলার যুবকদের এখন কাজের জন্য অন্য রাজ্যে যেতে হয়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতি বদলানোর জন্য একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। শিল্পনীতি বদলানো হবে।

তৃণমূলের শাসনামলের সমালোচনা করে মোদি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বহু অন্যায় হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে ভোটব্যাংকের রাজনীতি। তিনি অভিযোগ করেন, এই রাজনীতি বাংলায় মানুষকে দুর্গাপূজা করতে বাধা দেয়। এমন লোকদের কখনও ক্ষমা করা হবে না। বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করবেন আপনারা। কেউ ভয় দেখাবে না। বিজেপি সোনার বাংলা তৈরির জন্য কাজ করবে।

অভিষেকের পর এবার ফিরহাদের মেয়েকে গোয়েন্দা নোটিশ: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে শক্তি প্রদর্শনের খেলা জমে উঠেছে। মমতার ভাইপো ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের পর এবার ব্যাংকে লেনদেনে অসংগতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বড় মেয়ে প্রিয়দর্শিনীকে নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (ইডি)। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তলব করা হয়েছে।

ইডির অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে একাধিকবার বিদেশ গেছেন প্রিয়দর্শিনীর স্বামী ইয়াসির হায়দার। এক বিদেশি অভিনেত্রীর মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সে কারণেই একাধিক ব্যাংকে প্রিয়দর্শিনীর অ্যাকাউন্টে লেনদেনের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে ফিরহাদ হাকিম অবশ্য বলেছেন, 'এমন কিছু শুনিনি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।' এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ায় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির শীর্ষ কৌশল প্রণেতা অমিত শাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতার একটি আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। তার একদিন পর অভিষেকের স্ত্রীকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চিঠি দিয়ে তলব করে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)।