নিজেরা কতটা ধনী তা জানতে চায় এক সময়ের গরিব দেশ সৌদি আরব। তাই সম্পদ ও দায়ের হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে তারা। তৈরি করছে একীভূত ব্যালান্স শিট। বিশাল সম্পদের কোথায় কী বিনিয়োগ, কোথায় কতটা ঋণ সব জেনে নিট সম্পদের হিসাব জানতে কাজ করছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো- এমআরআই বা অভ্যন্তরীণ একটা ছবি তৈরি করে সরকারি ব্যালান্সশিটের আর্থিক সমতুল্যতা যাচাই করে নেওয়া। এতে আমাদের সম্পদ ও দায়ের পরিমাণ বোঝা যাবে। বর্তমানে এ সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো ধারণা আমাদের নেই। খবর রয়টার্সের।

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটির অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্যে প্রধান সার্বভৌম সম্পদের তহবিল সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

উপসাগরীয় দেশগুলো সাধারণত তাদের সামগ্রিক ঋণ এবং সম্পদ সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করে না। তবে সরকারি বিনিয়োগ তহবিলের (পিআইএফ) ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের প্রোফাইল এবং রাষ্ট্রীয় তহবিলের উদ্বোধন কিছু বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইস্যু হিসেবে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে সৌদি।

এদিকে পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিগুলোতে পিআইএফের অংশীদারিত্ব এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের জন্য সৌদি তেল সংস্থা আরামকো থেকে প্রত্যাশিত ৭০ বিলিয়ন ডলার তহবিলের সাহায্যে ২০১৫ সালে ১৫০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এর সম্পদ ৪০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ থাকা সত্ত্বেও তেল সম্পদের ওপর নির্ভরতা ছেড়ে দেশের যুব জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করতে চান প্রিন্স মোহাম্মদ।

লন্ডনভিত্তিক এসএএম ক্যাপিটাল পার্টনার্সের তহবিলের পরিচালক খালেদ আবদেল মাজিদ বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমান বুঝতে পেরেছেন, অর্থনীতি সাড়ে পাঁচ থেকে ৭ শতাংশ হারে না বাড়লে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পাবে। তাই তাকে সে উদ্দেশ্য সামনে রেখে কাজ করতে হচ্ছে।

বিষয় : ধনী সৌদি আরব হিসাব-নিকাশ

মন্তব্য করুন