মিয়ানমারের সদ্যগঠিত সামরিক সরকারকে ‘জান্তা’ বলা যাবে না। একই সঙ্গে তাদের সময়কালকে ‘রেজিম’ বা সামরিক শাসনকালও বলা যাবে না। অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল মিন অং হ্লায়িং দেশটির সংবাদপত্রগুলোকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন,  নির্দেশ মানা না হলেও তাদের প্রকাশনা লাইসেন্স বাতিল করা হবে। 

দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামরিক বাহিনী নিয়োজিত স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলকে ওই নামে ডাকা যাবে না। কারণ সামরিক বাহিনী উদ্যোগে গঠিত এই প্রশাসন সংবিধানসম্মতভাবেই তাদের দায়িত্ব পালন করছে। খবর ইরাবতী অনলাইনের।

মিয়ানমার প্রেস কাউন্সিলের কাছে পাঠানো এক নির্দেশিকায় মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, সাংবাদিকরা যেন নৈতিক দায়িত্ব বোধ থেকে খবর প্রকাশ করে এবং ‘গণঅসন্তোষ’ কিংবা ‘গণঅস্থিরতা’ এসব শব্দ এড়িয়ে চলে। সেনাপ্রধান সোমবার তাদের নিয়োজিত সরকারি কমিটির সঙ্গে বৈঠকের সময় বলেন, তারা যেন গণমাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়। প্রেসবিষয়ক নীতিমালা অনুসারে মিয়ানমার প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

রাষ্ট্রপরিচালিত গণমাধ্যমের খবর, যেসব গণমাধ্যম সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে নেতিবাচক খবর প্রকাশ করবে, তাদের প্রকাশনার অনুমতি বাতিল ও তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন সেনাপ্রধান।  এদিকে গত সপ্তাহের সামরিক আদেশের পর থেকে প্রেস কাউন্সিলের ২৬ সদস্যের মধ্যে ২৩ জন পদত্যাগ করেছেন এবং খবরবিষয়ক সবরকম  কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন।

মিজিমা মিয়ানমার নিউজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক উ সেইন উইন মঙ্গলবার ইরাবতীকে বলেছেন, অভ্যুত্থানের নেতার মন্তব্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং সত্যপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি করার প্রয়াস। সামরিক বাহিনী সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করে দেশকে অন্ধকারে নিয়ে যেতে চায়।

মঙ্গলবার ‘মিজ্জিমা’র সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, তারা এরপরও ‘মিলিটারি কাউন্সিল’, ‘জান্তা’ ও ‘রেজিম’ শব্দগুলো ব্যবহার করবে। তাদের মতে, জান্তা কোনো ঘৃণাসূচক নাম নয়। এটা আসলে পরিস্থিতির তখনকার অবস্থার বর্ণনা মাত্র।

মন্তব্য করুন