মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মোট ১১৫ জন কর্মী বলেছেন, তারা দেশটির সামরিক শাসনের অধীনে কাজ করতে রাজি নন। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন তারা।

বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন ও কর্মীরা। তারা বলেছেন, তারা কেবল গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের পক্ষে কাজ করতে চান। পদত্যাগ করেননি বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হননি তারা বরং সামরিক বাহিনীর জোর করে ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ফেরার পরই কেবল তারা কাজে ফিরবেন। খবর ইরাবতী

মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সামরিক বাহিনী থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ইউ চিট নাইং। তিনি একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংবাদপত্রগুলোতে সামরিক সরকারের পক্ষে লেখালেখি করা হচ্ছে। এসব গণমাধ্যমকে 'অভ্যুত্থান', 'সামরিক শাসন' এবং 'জান্তা' ব্যবহার না করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমারে গত ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় এনএলডি। তবে এনএলডি নিরঙ্কশ জয় পেলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। 

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ওইদিন ভোরে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ এনএলডির শীর্ষ বেশ কিছু নেতাকে গ্রেপ্তারের পর এক বছরের জন্য মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী। ক্ষমতায় বসেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং লাইং।

অভ্যুত্থানের পর সু চির বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে ওয়াকিটকি কেনা ও করোনাভাইরাস রোধে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। সোমবার সু চি বিরুদ্ধে নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনশান্তি বিনষ্টকারী তথ্য প্রকাশে উসকানির অভিযোগ আনা হয়েছে। সেইসঙ্গে টেলিযোগাযোগ আইনের অধীনে আরেকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

মন্তব্য করুন