পাকিস্তানে আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বুধবার, সিনেটে ক্ষমতাসীন দল- পিটিআই নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর উঠে প্রস্তাবটি।ক্ষমতায় এসেছেন তিন বছর আগে। এর মধ্যে বড় কোনো চ্যালেঞ্জের সামনে পড়েননি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান। 

কিন্তু এবার উচ্চকক্ষে মন্ত্রীর পরাজয়ের কারণে নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের চেষ্টা করতে হবে শাসক দল তেহরিক-ই-ইনসাফ-এর প্রধান ইমরান খানকে। ক্ষমতায় আসার পর এটাই তার জন্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। নিম্নকক্ষে আস্থা ভোটের পথে হেঁটে নিজের ও তাঁর দলের শক্তি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে তাকে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

সিনেটে অর্থমন্ত্রী আব্দুল হাফিজ শেখের পরাজয় শাসকদলকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দেয়। এই আসনে জয় পান বিরোধী দলীয় নেতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি। ১১টি বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্যই গিলানিকে সমর্থন দেন। ফলে গিলানি পান ১৬৯ ভোট। অর্থমন্ত্রী আব্দুল হাফিজ শেখ পান ১৬৪ ভোট। সাতটি ভোট বাতিল হয়ে যায়।

ইমরান খান যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন ১৮০ জন সদস্যের সমর্থন পেয়েছিলেন। কিন্তু এই হারের পর তার সরকারের ওপর আস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছে।

জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা সরাসরি ভোট দিয়ে সিনেটের সদস্য নির্বাচন করেন। সিনেটে হাফিজের পরাজয়েরও ইমরান খান চাইছেন তার দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে। নির্বাচনের পর এই ব্যাপারে সরকারের মতামত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি।

তবে উচ্চকক্ষে মাত্র একটি আসনে হেরেই নিম্নকক্ষের আস্থা ভোটের পথে হাঁটতে চাইছেন ইমরান? এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিদের দ্বারা সেনেটের ভোট নির্ধারিত হয়। সংসদে ইমরান সরকার যে এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী, সেটা নতুন করে প্রমাণ করার জন্যই এই আস্থা ভোটের পথে হাঁটতে চাইছে সরকার। সরকারের ধারণা, ভোট হলে ৩৪২ সদস্যের নিম্নকক্ষের বেশিরভাগ ভোটই পাবেন ইমরান।